, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দর্শনা থানার নতুন ওসি অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামের যোগদান দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় রুমে ঘুমাতে গিয়ে সাড়া নেই, পরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, স্ত্রী পলাতক চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি’য় উৎপাদিত দেশে অ্যালকোহলে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন প্রশাসক

চুয়াডাঙ্গায় আবারো শীতজনি রোটাভাইরাস ডায়রিয়া রোগের বৃদ্ধি

  • প্রকাশের সময় : ১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৮ পড়া হয়েছে

 

শিমুল রেজা
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং ভর্তি থাকছে ধারণ ক্ষমতার চেযে পাঁচগুণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ২০ জনের স্থানে এক থেকে দেড়শ জন ভর্তি থাকছে। একারণে সংকট দেখা দিয়েছে বেড, ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট স্যালাইন সেট। রোগীরা বেড না পেয়ে কষ্ট করে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে। শনিবার ( ১৭ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি রয়েছে দেড়শজন।এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু।

সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডে সামান্য পরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই। মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। সীমিত জনবল নিয়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শীতের এই সময়ে ঠান্ডা মেঝেতে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বসে থাকতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মায়েরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মা শাহিনা খাতুন বলেন, তার দুই বছরের ছেলের হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন কোনো বেড খালি নেই। ঠান্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক মর্জিনা খাতুন বলেন, রাতে শীত বেশি থাকায় মেঝেতে বাচ্চাকে নিয়ে থাকা খুব কষ্টের, তবুও উপায় নেই। গত ৩ দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে আছি। রোগীদের প্রচুর চাপ। তবে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি ছুটি হচ্ছে ৩০ জন ভর্তি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন। লোকোবল কম থাকায় রোগী সামলাতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরও তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ডায়রিয়া খুব মারাত্মক নয়, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে পানিশূন্যতা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোটা ভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসার মূল ভরসা ওরাল স্যালাইন। শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাসের বেশি বয়সি শিশুদের নরম খাবার, কাঁচকলা ভর্তা, ডালের পানি খাওয়াতে হবে এবং প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন খাওয়ানো বাধ্যতামূলক।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শীতের এ মৌসুমে পচ-বাসি খাবার না খাওয়া এবং ঠান্ডা থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন

জনপ্রিয়

দর্শনা থানার নতুন ওসি অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামের যোগদান

চুয়াডাঙ্গায় আবারো শীতজনি রোটাভাইরাস ডায়রিয়া রোগের বৃদ্ধি

প্রকাশের সময় : ১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

শিমুল রেজা
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং ভর্তি থাকছে ধারণ ক্ষমতার চেযে পাঁচগুণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ২০ জনের স্থানে এক থেকে দেড়শ জন ভর্তি থাকছে। একারণে সংকট দেখা দিয়েছে বেড, ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট স্যালাইন সেট। রোগীরা বেড না পেয়ে কষ্ট করে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে। শনিবার ( ১৭ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি রয়েছে দেড়শজন।এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু।

সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডে সামান্য পরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই। মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। সীমিত জনবল নিয়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শীতের এই সময়ে ঠান্ডা মেঝেতে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বসে থাকতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মায়েরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মা শাহিনা খাতুন বলেন, তার দুই বছরের ছেলের হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন কোনো বেড খালি নেই। ঠান্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক মর্জিনা খাতুন বলেন, রাতে শীত বেশি থাকায় মেঝেতে বাচ্চাকে নিয়ে থাকা খুব কষ্টের, তবুও উপায় নেই। গত ৩ দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে আছি। রোগীদের প্রচুর চাপ। তবে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি ছুটি হচ্ছে ৩০ জন ভর্তি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন। লোকোবল কম থাকায় রোগী সামলাতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরও তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ডায়রিয়া খুব মারাত্মক নয়, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে পানিশূন্যতা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোটা ভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসার মূল ভরসা ওরাল স্যালাইন। শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাসের বেশি বয়সি শিশুদের নরম খাবার, কাঁচকলা ভর্তা, ডালের পানি খাওয়াতে হবে এবং প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন খাওয়ানো বাধ্যতামূলক।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শীতের এ মৌসুমে পচ-বাসি খাবার না খাওয়া এবং ঠান্ডা থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন