, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় রুমে ঘুমাতে গিয়ে সাড়া নেই, পরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, স্ত্রী পলাতক চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি’য় উৎপাদিত দেশে অ্যালকোহলে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় যুব সবুজ উদ্যোক্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গার সব খাল খননে উদ্যোগ, উন্মুক্ত টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন সবাই

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
  • ১ পড়া হয়েছে

 

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে বাসায় এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো খাটানো এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লাবনী প্রায় দুই বছর আগে লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মরিয়ম (১০) নামের শিশুটিকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে তাকে দিয়ে ঘরের বিভিন্ন কাজ করানো হয় এবং সামান্য ভুলত্রুটিতেই শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে মরিয়মকে মারধর করা হয়। শিশুটির স্বজনদের দাবি, তাকে পেটে লাথি মারা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরে সে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে তার নানি রশিদা খাতুন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।

মরিয়ম অভিযোগ করে বলে, তাকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ঘরের প্রায় সব কাজ করতে হতো। কোনো কাজে ভুল হলে মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তার দাবি। সে আরও অভিযোগ করে, কান্নাকাটি করলে অনেক সময় তার মুখ চেপে ধরা হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জন্মের ছয় বছর পর মরিয়মের মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে সে নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর তাকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসায় নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুরুতে কিছুদিন স্কুলে গেলেও পরে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

শিশুটির নানি রশিদা খাতুন বলেন, ‘এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনির সুষ্ঠু চিকিৎসা ও ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লাবনীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটি আমার কাছে চার বছর ধরে আছে আমি নিজের সন্তানের মতকরে তাকে লালন পালন করি। নিজের মেয়ে হলে কি শাসন করা যায় না। আমি তাকে শাসন করেছি আমার রাগ হয়ে যাওয়াই আমি তাকে মেরেছি খুব বেশি মারিনি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে

 

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে বাসায় এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো খাটানো এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লাবনী প্রায় দুই বছর আগে লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মরিয়ম (১০) নামের শিশুটিকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে তাকে দিয়ে ঘরের বিভিন্ন কাজ করানো হয় এবং সামান্য ভুলত্রুটিতেই শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে মরিয়মকে মারধর করা হয়। শিশুটির স্বজনদের দাবি, তাকে পেটে লাথি মারা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরে সে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে তার নানি রশিদা খাতুন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।

মরিয়ম অভিযোগ করে বলে, তাকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ঘরের প্রায় সব কাজ করতে হতো। কোনো কাজে ভুল হলে মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তার দাবি। সে আরও অভিযোগ করে, কান্নাকাটি করলে অনেক সময় তার মুখ চেপে ধরা হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জন্মের ছয় বছর পর মরিয়মের মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে সে নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর তাকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসায় নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুরুতে কিছুদিন স্কুলে গেলেও পরে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

শিশুটির নানি রশিদা খাতুন বলেন, ‘এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনির সুষ্ঠু চিকিৎসা ও ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লাবনীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটি আমার কাছে চার বছর ধরে আছে আমি নিজের সন্তানের মতকরে তাকে লালন পালন করি। নিজের মেয়ে হলে কি শাসন করা যায় না। আমি তাকে শাসন করেছি আমার রাগ হয়ে যাওয়াই আমি তাকে মেরেছি খুব বেশি মারিনি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে