, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দর্শনা থানার নতুন ওসি অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামের যোগদান দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় রুমে ঘুমাতে গিয়ে সাড়া নেই, পরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, স্ত্রী পলাতক চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি’য় উৎপাদিত দেশে অ্যালকোহলে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন প্রশাসক

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিনম্র শ্রদ্ধা

  • প্রকাশের সময় : ১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৩ পড়া হয়েছে

নজরুল ইসলাম,

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার এই অমর দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। একুশের প্রথম প্রহরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

রাত ঠিক ১২টা ০১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের করুণ ও আবেগময় সুর এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পুলিশ সুপার মহোদয় ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে পুলিশ সুপারের সাথে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মোঃ মিনহাজ-উল- ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল)। অনির্বাণ দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস)।

এছাড়াও ডিআইও-১ (ডিএসবি), জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি, কোর্ট ইন্সপেক্টর, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ট্রাফিক ইন্সপেক্টরসহ (টিআই) জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

একুশের প্রথম প্রহরে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো:

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ: ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ডিএসবি ও ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে মোতায়েন ছিলেন।

তল্লাশি চৌকি: শহীদ মিনারের প্রবেশপথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি এবং হ্যান্ডব্যাগ পরীক্ষা করা হয়।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: যানজট এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ দায়িত্ব পালন করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একুশের চেতনা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মায়ের ভাষায় কথা বলছি। তাঁদের সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় দিবসের অন্যান্য কর্মসূচি, যা দিনভর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দর্শনা থানার নতুন ওসি অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামের যোগদান

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশের সময় : ১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নজরুল ইসলাম,

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার এই অমর দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। একুশের প্রথম প্রহরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

রাত ঠিক ১২টা ০১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের করুণ ও আবেগময় সুর এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পুলিশ সুপার মহোদয় ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে পুলিশ সুপারের সাথে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মোঃ মিনহাজ-উল- ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল)। অনির্বাণ দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস)।

এছাড়াও ডিআইও-১ (ডিএসবি), জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি, কোর্ট ইন্সপেক্টর, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ট্রাফিক ইন্সপেক্টরসহ (টিআই) জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

একুশের প্রথম প্রহরে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো:

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ: ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ডিএসবি ও ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে মোতায়েন ছিলেন।

তল্লাশি চৌকি: শহীদ মিনারের প্রবেশপথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি এবং হ্যান্ডব্যাগ পরীক্ষা করা হয়।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: যানজট এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ দায়িত্ব পালন করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একুশের চেতনা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মায়ের ভাষায় কথা বলছি। তাঁদের সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় দিবসের অন্যান্য কর্মসূচি, যা দিনভর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।