শিমুল রেজা,
বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল না দেয়ায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। চারদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎবিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।
ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সেখানে স্থবির হয়ে পড়েছে নাগরিক সেবা। এতে সেবা বঞ্চিত মানুষ চরম অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরেও সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের উদাসীনতা ও অবহেলাকেই দায়ী করছেন অনেকেই।
এসব ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া পরিষদের আইপিএস ও সোলার যা আছে তা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের উপযোগী না। ফলে প্রতিনিয়তই পরিষদে এসে ফিরে যাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের এক সভায় এক বছরের বিদ্যুৎবিল পরিশোধের জন্য রেজুলেশন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই বিল নির্ধারিত সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা না দেওয়ায় বকেয়া বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে গত ১৮ জুন বকেয়া বিদ্যুৎবিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকে পরিষদ কার্যালয় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটারভিত্তিক বিভিন্ন সেবা প্রদান বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক মানুষকে। বৈদ্যুতিক পাখা বা বাতি বন্ধ থাকায় পরিষদের কোনো কাজই করতে পারছেন না কর্মরতরা।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে মানুষের যাতায়াত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অধিকাংশ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছ।
এ বিষয়ে বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিয়েরাজ হোসেন বলেন, ‘বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।’
এদিকে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে জনসেবামূলক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী




















