
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তবর্তী কামারপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণ ও হুন্ডি পাচারের অন্যতম হটস্পট হিসেবে পরিচিত। সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচার থামেনি—বরং নীরবে আরও সুসংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ ও মাদক এখন পুরনো ইস্যু। নতুন করে যুক্ত হয়েছে অস্ত্র চোরাচালান, গত সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা থানাধীন কামারপাড়া গ্রাম একটি আমবাগান থেকে ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গার ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এসব চলতে থাকলে শুধু সীমান্ত নয়, জাতীয় নিরাপত্তাও ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। এখনই জরুরি সময়, রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর, সমন্বিত, ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণের এমনই অভিমত সচেতন মহলের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের শীর্ষ স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত কিতাব আলী ছেলে সামাদ, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ,মাদক ও হুন্ডি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই সীমান্তে কারবার করতে হলে সামাদের অনুমতি লাগে। তার লোকজন চারদিকে। কেউ বাধা দিতে সাহস পায় না।”
স্থানীয়দের ভাষায়, সামাদ স্বর্ণ ও মাদক কারবারি গডফাদার’ হিসেবেই পরিচিত। স্বর্ণ পাচার ও চোরাচালানে জড়িতদের কেউ কারবারি, কেউ পৃষ্ঠপোষক, কেউ বাহক। চোরাই স্বর্ণ বহনের সময় কালেভদ্রে কিছু বাহককে গ্রেপ্তার করা গেলেও বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চোরাচালান চক্রের গডফাদার সামাদ। তার নানান অপকর্ম বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ সব খবরের শিরোনাম – চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে চোরাই স্বর্ণের বিশাল সিন্ডিকেট, মূল হোতা গডফাদার সামাদ ধরাছোঁয়ার বাইরে, সংবাদ প্রচারিত হয়।সাংবাদিকের হাতে আসা একাধিক অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, সামাদ নিজেই স্বর্ণ পাচারে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন। কিছু রেকর্ডিংয়ে তাকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াত, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং আটক হওয়া কয়েকটি স্বর্ণের চালান নিজের বলে দাবি করতে শোনা যায়। অন্য একটি রেকর্ডিংয়ে তার কাছে অস্ত্র থাকার কথাও উঠে এসেছে। এবং আরও একটি ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের কাটাতারের ওপারে গিয়ে ধারণ করা দৃশ্য পাওয়া গেছে। সেখানে তার কণ্ঠে ভারতীয় সীমান্ত এলাকার দৃশ্য দেখানোর কথাও শোনা যায়। আরেক ভিডিওতে তাকে একটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে, যা চক্রটির সহিংস সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য সামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন “এত বড় অভিযোগের পরও যদি কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই—সে কীভাবে এত শক্তিশালী?”
দুঃখজনক বিষয় হলো সত্য, কুখ্যাত স্বর্ণ চোরাকারবারি সামাদ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেওপ্রশাসনের গাফিলতি তাকে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কল রেকর্ড ভিডিও ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও সামাদ ধরা না পড়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাদের মত চোরাকারবারিরা যদি পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে তাহলে যুব সমাজ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাবে বলেও অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর,প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গোপনে তদন্ত করে ভারতীয় চোরাকারবারি সামাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তার সহযোগী প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিবেন এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ঐ এলাকার সাধারণ মানুষেরা।
এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সামাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাদকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর সব তথ্যসহ তার কাছে থাকা স্বর্ণ,অস্ত্র ও গুলির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টির প্রতি সুনজর দিয়ে প্রযোজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার ও চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী সহ-সচেতন মহল।




















