, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক মাদকমুক্ত দর্শনা পৌরসভা গড়ার অঙ্গীকার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আইসিইউ উদ্বোধন,হাসপাতালে মিলবে নিবিড় পরিচর্যা সেবা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা,প্রতিহত বিজিবির কার্পাসডাঙ্গা ইউপি নির্বাচন তরুণ ভোটারদের আস্থার প্রতীক চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে দর্শনা পৌর বিএনপি’র শুভেচ্ছা দর্শনা সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ চুয়াডাঙ্গায় মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা চুয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু,এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া চুয়াডাঙ্গার আক্কাস লেক ভিউ পার্কে যুবক-যুবতীকে ঘিরে ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় চাঞ্চল্য

সূর্যের প্রখরতায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা,ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন,

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫ পড়া হয়েছে

 

 

শিমুল রেজা,
প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যের প্রখরতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাপপ্রবাহ চলমান রয়েছে।শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল ) দুপুর ৩ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭. দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ। এই প্রচণ্ড তাপে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে এক বিরল দৃশ্য তপ্ত রোদে রাস্তার পিচ গলে নরম হয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় গরমের তীব্রতা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বৃদ্ধিটা অস্বাভাবিক দ্রুত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তীব্র রোদে চুয়াডাঙ্গা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। শহরের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা ও প্রধান বাণিজ্যিক মোড়গুলোতে দেখা গেছে, রাস্তার পিচ গলে আলকাতরার মতো তরল হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির টায়ারে এই আঠালো পিচ লেপ্টে যাচ্ছে, ফলে একদিকে যেমন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে মোটর সাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পথচারীরা জানিয়েছেন, পিচ গলে নিচ থেকে যে তপ্ত ভাপ আসছে, তাতে চোখের পলক ফেলাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষগুলো। কিন্তু এবারের বিপত্তি বেড়েছে শহরের জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে। তেলের সংকটের কারণে তপ্ত রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।

শহরের এক তেলের পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিপন হোসেন নামে এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল থেকে এই আগুনের মতো রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। মাথার ওপর সূর্য আর নিচ থেকে রাস্তার গরম ভাপ—শরীর আর সইছে না। তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থেকে মানুষ এখন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমাদের এখানে শীত যেমন বেশি, গরমও তেমন। কিন্তু এপ্রিলের যদি পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, তবে সামনে মে-জুন মাসে কী হবে, তা ভেবেই বুক কাঁপছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান আজকের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে একটি মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দুপুর নাগাদ ৩ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় শরীর থেকে ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং জ্বালাপোড়া বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কবার্তা জারি করেছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চুয়াডাঙ্গার এই অস্বাভাবিক দাবদাহ কেবল একটি আবহাওয়াগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ রূপ। রাস্তার পিচ গলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, ভূ-প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

একদিকে কৃষিপ্রধান এই জেলায় সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে তীব্র তাপে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে। দ্রুত বনায়ন এবং জলাশয় রক্ষা না করলে আগামীতে এই তাপমাত্রা জনবসতির অযোগ্য পর্যায়ে চলে যেতে পারে বলে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আপাতত বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে চুয়াডাঙ্গাবাসী।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

সূর্যের প্রখরতায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা,ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন,

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 

 

শিমুল রেজা,
প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যের প্রখরতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাপপ্রবাহ চলমান রয়েছে।শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল ) দুপুর ৩ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭. দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ। এই প্রচণ্ড তাপে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে এক বিরল দৃশ্য তপ্ত রোদে রাস্তার পিচ গলে নরম হয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় গরমের তীব্রতা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বৃদ্ধিটা অস্বাভাবিক দ্রুত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তীব্র রোদে চুয়াডাঙ্গা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। শহরের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা ও প্রধান বাণিজ্যিক মোড়গুলোতে দেখা গেছে, রাস্তার পিচ গলে আলকাতরার মতো তরল হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির টায়ারে এই আঠালো পিচ লেপ্টে যাচ্ছে, ফলে একদিকে যেমন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে মোটর সাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পথচারীরা জানিয়েছেন, পিচ গলে নিচ থেকে যে তপ্ত ভাপ আসছে, তাতে চোখের পলক ফেলাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষগুলো। কিন্তু এবারের বিপত্তি বেড়েছে শহরের জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে। তেলের সংকটের কারণে তপ্ত রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।

শহরের এক তেলের পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিপন হোসেন নামে এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল থেকে এই আগুনের মতো রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। মাথার ওপর সূর্য আর নিচ থেকে রাস্তার গরম ভাপ—শরীর আর সইছে না। তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থেকে মানুষ এখন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমাদের এখানে শীত যেমন বেশি, গরমও তেমন। কিন্তু এপ্রিলের যদি পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, তবে সামনে মে-জুন মাসে কী হবে, তা ভেবেই বুক কাঁপছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান আজকের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে একটি মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দুপুর নাগাদ ৩ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় শরীর থেকে ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং জ্বালাপোড়া বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কবার্তা জারি করেছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চুয়াডাঙ্গার এই অস্বাভাবিক দাবদাহ কেবল একটি আবহাওয়াগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ রূপ। রাস্তার পিচ গলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, ভূ-প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

একদিকে কৃষিপ্রধান এই জেলায় সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে তীব্র তাপে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে। দ্রুত বনায়ন এবং জলাশয় রক্ষা না করলে আগামীতে এই তাপমাত্রা জনবসতির অযোগ্য পর্যায়ে চলে যেতে পারে বলে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আপাতত বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে চুয়াডাঙ্গাবাসী।