, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দামুড়হুদায় পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কারাগারে শ্বশুর দর্শনাবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণার দাবি চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের অস্থিরতা, প্রতিবাদে মানববন্ধন চুয়াডাঙ্গায় গলায় ট্যাবলেট আটকে শিশুর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযানে চার জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দামুড়হুদায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে জাল ধ্বংস দামুড়হুদায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত চুয়াডাঙ্গায় গোপনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি,৩০ হাজার টাকা জরিমানা

হাড়কাঁপানো শীত কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা ,তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে

  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮ পড়া হয়েছে
শিমুল রেজা,
কনকনে শীতের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গায় সাধারণ মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জেঁকে বসেছে শীত,তাপমাত্রার পারদ গড়িয়ে নামল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসে ঠেকেছে—দেশের শীতলতম জনপদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা। ভোরের আকাশে আলো ছড়ানোর আগেই কুয়াশার ঘুর্ণায়মান চাদরে ঢাকা পড়ছে মাঠ–ঘাট, সড়ক–জনপদ। রাত যত গভীর হয়, কুয়াশা ততই যেন তার রাজত্ব বিস্তার করে। হিমেল বাতাসের ধারালো ঠান্ডা আর কুয়াশার দমবন্ধ করা ঘনত্ব মিলে সৃষ্টি করেছে শীতের এক কাঁপন ধরানো পরিবেশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন বৈরী আবহাওয়া এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। কায়িক শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষ একেবারে কাবু হয়ে পড়েছে। কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। ১০ হাত কাছেও দৃষ্টিসীমা হরণ করছে কুয়াশা। দুপুরেও সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহ চলাচল করছে। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত গরিব ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের প্রকোপে হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো ঠান্ডাজনিত রোগ।
কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ও ভ্যানচালক।
অটোরিকশা চালক মশিউর রহমান বলেন, যে পরিমাণ ঠান্ডা বাতাস বইছে, তাতে মানুষ বাড়ি থেকে কম বের হয়। এজন্য ভাড়া কমে গেছে।
দিনমজুর রবিউল ইসলাম বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
জনপ্রিয়

দামুড়হুদায় পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কারাগারে শ্বশুর

হাড়কাঁপানো শীত কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা ,তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিমুল রেজা,
কনকনে শীতের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গায় সাধারণ মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জেঁকে বসেছে শীত,তাপমাত্রার পারদ গড়িয়ে নামল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসে ঠেকেছে—দেশের শীতলতম জনপদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা। ভোরের আকাশে আলো ছড়ানোর আগেই কুয়াশার ঘুর্ণায়মান চাদরে ঢাকা পড়ছে মাঠ–ঘাট, সড়ক–জনপদ। রাত যত গভীর হয়, কুয়াশা ততই যেন তার রাজত্ব বিস্তার করে। হিমেল বাতাসের ধারালো ঠান্ডা আর কুয়াশার দমবন্ধ করা ঘনত্ব মিলে সৃষ্টি করেছে শীতের এক কাঁপন ধরানো পরিবেশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন বৈরী আবহাওয়া এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। কায়িক শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষ একেবারে কাবু হয়ে পড়েছে। কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। ১০ হাত কাছেও দৃষ্টিসীমা হরণ করছে কুয়াশা। দুপুরেও সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহ চলাচল করছে। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত গরিব ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের প্রকোপে হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো ঠান্ডাজনিত রোগ।
কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লোকসমাগম অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ও ভ্যানচালক।
অটোরিকশা চালক মশিউর রহমান বলেন, যে পরিমাণ ঠান্ডা বাতাস বইছে, তাতে মানুষ বাড়ি থেকে কম বের হয়। এজন্য ভাড়া কমে গেছে।
দিনমজুর রবিউল ইসলাম বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।