, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ১৮টি ভারতীয় রূপার বারসহ নারী চোরাকারবারি আটক চুয়াডাঙ্গায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল; গ্রেপ্তার ৩ চুয়াডাঙ্গায় ছুরি-দা তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে কামার পল্লীতে, কারিগরে মুখে সাময়িক হাসি চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন ২৬ মণের ‘রাজাবাবু’ মাতাবে কুষ্টিয়া, দাম হাঁকছেন ৮ লাখ দর্শনায় ৪৮ বোতল মাদকদ্রব্য এস্কাফ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার দর্শনায় জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ টাকা ও খেলার সরঞ্জামসহ ৩ জুয়াড়ি গ্রেফতার  চুয়াডাঙ্গায় ভ্যান চুরিকে কেন্দ্র করে ডেলিভারি বয়কে পিটিয়ে হত্যা চুয়াডাঙ্গায় ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ২১ তরুণ-তরুণী দামুড়হুদায় ৮ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রয় নগদ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৪ পড়া হয়েছে

 

দামুড়হুদা উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারদর হঠাৎ ধসে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বিশেষ করে কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদহ ইউনিয়নের চাষিরা এবার বাম্পার ফলন পেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চাষ করা পেঁয়াজ এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দামের পতনে সেই হাসি এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা ছিল ঋণ শোধ করে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবো। কিন্তু বর্তমান দামে খরচই উঠছে না। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
নাটুদহ ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়াও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের এমন অবস্থা আগে দেখিনি। এত কষ্ট করে চাষ করলাম, কিন্তু বিক্রি করে কিছুই থাকছে না। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৫শত থেকে ১ হাজার ৬শত টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫শত টাকায়। এই দামে বিক্রি করে উৎপাদন খরচও ওঠে না। ফলে অধিকাংশ কৃষক চরম লোকসানে পড়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আল সাবাহ্ জানান, দামুড়হুদা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৩৯ হেক্টর জমিতে এবং শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৯০৫ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৩৬ মেট্রিক টন। তিনি আরোও বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ১৮টি ভারতীয় রূপার বারসহ নারী চোরাকারবারি আটক

দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

প্রকাশের সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

দামুড়হুদা উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারদর হঠাৎ ধসে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বিশেষ করে কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদহ ইউনিয়নের চাষিরা এবার বাম্পার ফলন পেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চাষ করা পেঁয়াজ এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দামের পতনে সেই হাসি এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা ছিল ঋণ শোধ করে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবো। কিন্তু বর্তমান দামে খরচই উঠছে না। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
নাটুদহ ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়াও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের এমন অবস্থা আগে দেখিনি। এত কষ্ট করে চাষ করলাম, কিন্তু বিক্রি করে কিছুই থাকছে না। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৫শত থেকে ১ হাজার ৬শত টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫শত টাকায়। এই দামে বিক্রি করে উৎপাদন খরচও ওঠে না। ফলে অধিকাংশ কৃষক চরম লোকসানে পড়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আল সাবাহ্ জানান, দামুড়হুদা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৩৯ হেক্টর জমিতে এবং শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৯০৫ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৩৬ মেট্রিক টন। তিনি আরোও বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব