
শিমুল রেজা,
চুয়াডাঙ্গায় উগ্রবাদ মোকাবেলায় প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা হেযবুত তওহীদ।সোমবার ১৬ মার্চ দুপুর ২ টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে যে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে আইনজীবী,স্থানীয় সাংবাদিক, ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন সাইফুর রহমান সাইফ দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থার অসারতা তুলে ধরে বলেন, “ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া এই বিচারব্যবস্থা দেশের সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় আদালত, আইনজীবী ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আজ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এমতাবস্থায় এই ব্যর্থ ও ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে আল্লাহর দেওয়া নির্ভুল বিচারব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।”
তিনি মূলত দু’টি সুনির্দিষ্ট কারণে প্রচলিত বিচারব্যবস্থা অনুসরণ না করার ব্যাখ্যা দেন। প্রথমত, তিনি ঈমানি আকিদার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যে বিষয়ে মহান আল্লাহর কোনো বিধান বা হুকুম রয়েছে, সেখানে অন্য কারো মনগড়া বিধান আমরা মানতে পারি না। এটা আমাদের ঈমানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। অথচ প্রচলিত বিচারব্যবস্থা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী পরিচালিত না হয়ে ঔপনিবেশিক যুগে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বিধি-বিধানের আলোকে চলছে।”
আরও বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং সমাজে উগ্রবাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
দ্বিতীয়ত তিনি এই ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেন, “প্রচলিত এই ব্যবস্থা মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের আদালত গুলোতে প্রায় অর্ধকোটি মামলা ঝুলে আছে। একটি মামলার রায় পেতে ভুক্তভোগীদের যুগ যুগ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অর্থ ও সময় ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত মানুষ সঠিক বিচার পাচ্ছে না।”
তিনি মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হলে শুধু বিচারব্যবস্থা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজে চলমান অন্যায়, অবিচার ও অশান্তি দূর করে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা। হেযবুত তওহীদ সেই লক্ষ্যেই জাতিকে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করে যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এড.মানিক আকবার, এড.মাসুদ পারভেজ, এড.বদর উদ্দিন, এড.ইউনুস আলী, এড. ওয়াহেদুজ্জামান মুকুল, এড.মাসুদুর রহমান লিটন, এড.রেজাউল হক, এড.আবু সিহাব, হেযবুত তওহীদের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসান, বিভাগীয় সভাপতি তানভীর আহমেদ, হেযবুত তওহীদের কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির জসেব উদ্দিন, জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি জুয়েল ডানা চুয়াডাঙ্গা জেলায় হিজবুত তওহীদের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান। মতবিনিময় সভায় জেলায় কর্মরত আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ ব্যক্তিবর্গ ও হেযবুত তওহীদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা পবিত্র রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



















