, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত ৩, রোগী ভর্তি: পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত সকলের সহযোগিতায় একটি আধুনিক উন্নত চুয়াডাঙ্গা গড়তে পারব : নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার চুয়াডাঙ্গায় একই ব্যক্তির নামে দুটি মাজার! জনমনে নানা প্রশ্ন টানা তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার মানুষ অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় ৫০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ: শুক্রবার জেলার যে সকল পাম্পে আজ তেল বিতরণ করা হবে চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রদলের মতবিনিময় সভায় শরীফুজ্জামান শরীফ ঝিনাইদহে বিপন্ন মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত

দর্শনা কেরু চিনিকলে ৮৮ তম আখমাড়াই শুরু,লক্ষ্যমাত্রা ৭৬ হাজার মেট্রিক টন 

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪০ পড়া হয়েছে

 

শিমুল রেজা,
দেশের ঐতিহ্যবাহি চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানী প্রায় ৬৪ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ৮৮তম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার সময় চিনিকলের কেইন কেরিয়ারে আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। এর আগে মিলের কেন কেরিয়ার প্রাঙ্গণে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিল্প উপদেষ্টা বলেন, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কেরু চিনিকল সরকারের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য যা যা করার তার সবই করবে সরকার। তিনি মিলের কর্মকর্তা কর্মচারী ও আখ চাষীদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য এবং দেশের স্বার্থে অবদান রাখতে অনুরোধ করেন। সরকারের গোডাউনে যতদিন দেশী চিনি থাকবে ততদিন কোন চিনি আমদানি করা হবে না। দেশী চিনি টিসিবি’র মাধ্যমে সারাদেশে সরবরাহ করা হবে। চিনিকলে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.রাব্বিক হাসানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো.রেজাউল হক, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) আব্দুল আলীম খান প্রমুখ।

কেরু চিনিকলের দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা এক হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাড়াই মৌসুমে ৭২ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মে.টন আখ মাড়াই করে চার হাজার ২৫৬ মে.টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং চিনি আহরনের হার ৫ দশমিক ৬ ভাগ নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৪ মাড়াই দিবসে ৭২ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। মিল চালুর পর থেকে গত মৌসুম পর্যন্ত মোট ৮৮টি মাড়াই মৌসুমে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৫ টাকা।

প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মিলহাউজে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করে চিনিকলটি আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এতে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে এলাকায় আখ চাষ ক্রমাগত কমতে থাকায় সংকটে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহি এই চিনিকলটি। চাষীদের দাবীর প্রেক্ষিতে মৌসুমে আখের ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে সরকার। এবার প্রতিমণ (৪০ কেজি) আখের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চিনির মূল্য বাড়লেও আশানুরূপ হারে আখের মূল্য বাড়েনি। আখের মূল্য আরও বাড়ানোর দাবি আখ চাষীদের।

মিলজোন এলাকায় এবার দণ্ডায়মান আখ রয়েছে ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে। এর মধ্যে চিনিকলের নিজস্ব খামারে ১৬’শ ২৫ একর এবং চাষীর জমিতে ৩ হাজার ৯’শ ৩৭ একর জমিতে। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ আখ উৎপাদন করায় ইসমাইল হোসেন, মজিদ মোল্লা, বকুল হোসেন এবং একর প্রতি সর্বোচ্চ আখ উৎপাদন কারী হিসাবে শামীম হোসেন, মোমিনুল হক, গোলাম সরোয়ার ও শাহ রকিবুল হাসানকে কেরু চিনিকলের পক্ষ থেকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

দর্শনা কেরু চিনিকলে ৮৮ তম আখমাড়াই শুরু,লক্ষ্যমাত্রা ৭৬ হাজার মেট্রিক টন 

প্রকাশের সময় : ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

শিমুল রেজা,
দেশের ঐতিহ্যবাহি চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানী প্রায় ৬৪ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ৮৮তম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার সময় চিনিকলের কেইন কেরিয়ারে আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। এর আগে মিলের কেন কেরিয়ার প্রাঙ্গণে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিল্প উপদেষ্টা বলেন, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কেরু চিনিকল সরকারের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য যা যা করার তার সবই করবে সরকার। তিনি মিলের কর্মকর্তা কর্মচারী ও আখ চাষীদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য এবং দেশের স্বার্থে অবদান রাখতে অনুরোধ করেন। সরকারের গোডাউনে যতদিন দেশী চিনি থাকবে ততদিন কোন চিনি আমদানি করা হবে না। দেশী চিনি টিসিবি’র মাধ্যমে সারাদেশে সরবরাহ করা হবে। চিনিকলে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.রাব্বিক হাসানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো.রেজাউল হক, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) আব্দুল আলীম খান প্রমুখ।

কেরু চিনিকলের দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা এক হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাড়াই মৌসুমে ৭২ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মে.টন আখ মাড়াই করে চার হাজার ২৫৬ মে.টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং চিনি আহরনের হার ৫ দশমিক ৬ ভাগ নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৪ মাড়াই দিবসে ৭২ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। মিল চালুর পর থেকে গত মৌসুম পর্যন্ত মোট ৮৮টি মাড়াই মৌসুমে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৫ টাকা।

প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মিলহাউজে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করে চিনিকলটি আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এতে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে এলাকায় আখ চাষ ক্রমাগত কমতে থাকায় সংকটে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহি এই চিনিকলটি। চাষীদের দাবীর প্রেক্ষিতে মৌসুমে আখের ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে সরকার। এবার প্রতিমণ (৪০ কেজি) আখের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চিনির মূল্য বাড়লেও আশানুরূপ হারে আখের মূল্য বাড়েনি। আখের মূল্য আরও বাড়ানোর দাবি আখ চাষীদের।

মিলজোন এলাকায় এবার দণ্ডায়মান আখ রয়েছে ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে। এর মধ্যে চিনিকলের নিজস্ব খামারে ১৬’শ ২৫ একর এবং চাষীর জমিতে ৩ হাজার ৯’শ ৩৭ একর জমিতে। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ আখ উৎপাদন করায় ইসমাইল হোসেন, মজিদ মোল্লা, বকুল হোসেন এবং একর প্রতি সর্বোচ্চ আখ উৎপাদন কারী হিসাবে শামীম হোসেন, মোমিনুল হক, গোলাম সরোয়ার ও শাহ রকিবুল হাসানকে কেরু চিনিকলের পক্ষ থেকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।