, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত ৩, রোগী ভর্তি: পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত সকলের সহযোগিতায় একটি আধুনিক উন্নত চুয়াডাঙ্গা গড়তে পারব : নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার চুয়াডাঙ্গায় একই ব্যক্তির নামে দুটি মাজার! জনমনে নানা প্রশ্ন টানা তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার মানুষ অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় ৫০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ: শুক্রবার জেলার যে সকল পাম্পে আজ তেল বিতরণ করা হবে চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রদলের মতবিনিময় সভায় শরীফুজ্জামান শরীফ ঝিনাইদহে বিপন্ন মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত

চুয়াডাঙ্গায় মুখী কচু চাষে লোকসানের আশঙ্কা, পুঁজি হারানোর শঙ্কায় কৃষকরা

  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • ৩৩৯ পড়া হয়েছে

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অধিক লাভের আশায় মুখী কচু চাষে ঝুঁকেছিলেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ বেশি ও বাজারমূল্য কম থাকায় এবার পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন অনেকেই। অতিবৃষ্টিতে নিচু জমির কচু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে।

উপজেলার উথলী, আন্দুলবাড়িয়া, রায়পুর, হাসাদাহ, বাঁকা, মনোরপুর ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলি জমিতে ব্যাপক হারে মুখী কচুর আবাদ হয়েছে। অনেক জমিতে কচুর পাতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং পানিতে ভাসছে গাছ। কিছু কৃষক এখনো বাজারে ভালো দামের আশায় কচু তুলে বিক্রি করছেন না, আবার কেউ খুচরা বিক্রির চেষ্টা করছেন।

চাষিরা জানান, বিঘাপ্রতি মুখী কচু চাষে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদিত কচু বর্তমানে ভালো মানের হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। বিঘাপ্রতি অন্তত ৮০ হাজার টাকা বিক্রি না হলে তাদের লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ফেরত আসবে না।

সুবোলপুর গ্রামের কচু চাষি আব্দুস ছাত্তার জানান,“৪০ শতক জমিতে কচু চাষ করে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, এর সঙ্গে জমি মালিককে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। মাসখানেক আগে এক ক্রেতা ১ লাখ টাকা বললেও এখন মাত্র ৬০ হাজার দাম বলছে। এতে কিচ্ছু থাকবে না।”

উথলী গ্রামের তরুণ কৃষক কৌশিক রহমান বলেন,“দেড় বিঘা জমির অর্ধেক পানিতে ডুবে গেছে। যেগুলো আছে, অতিবৃষ্টিতে তারও অবস্থা ভালো না। বাজারে কেজি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে শ্রমিক খরচ দিয়েই টাকা শেষ হয়ে যাবে।”

আরেক কৃষক লাবু মল্লিক বলেন,“গতবার কচু বিক্রি করে লাভ হয়েছিল, এবার খরচ বেশি, দাম কম। জমি সেচ দিতে হয়, সার লাগে বেশি, শ্রমিক খরচও বেশি। কচু বিক্রির সময় হলেও ভালো দাম না থাকায় বিক্রি করছি না।”

স্থানীয় কচু ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের কচুর চাহিদা কমে গেছে। সেই সঙ্গে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অনেকেই আলুর দিকে ঝুঁকছেন। তবে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে কচুর বাজার কিছুটা চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে মুখী কচুর আবাদ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন ৯০ থেকে ১০০ মণের মতো হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ বছর সবজির দাম তুলনামূলক কম। আবার কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন, এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পরিমিত সার ব্যবহারের বিষয়ে আমরা সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

চুয়াডাঙ্গায় মুখী কচু চাষে লোকসানের আশঙ্কা, পুঁজি হারানোর শঙ্কায় কৃষকরা

প্রকাশের সময় : ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অধিক লাভের আশায় মুখী কচু চাষে ঝুঁকেছিলেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ বেশি ও বাজারমূল্য কম থাকায় এবার পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন অনেকেই। অতিবৃষ্টিতে নিচু জমির কচু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে।

উপজেলার উথলী, আন্দুলবাড়িয়া, রায়পুর, হাসাদাহ, বাঁকা, মনোরপুর ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলি জমিতে ব্যাপক হারে মুখী কচুর আবাদ হয়েছে। অনেক জমিতে কচুর পাতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং পানিতে ভাসছে গাছ। কিছু কৃষক এখনো বাজারে ভালো দামের আশায় কচু তুলে বিক্রি করছেন না, আবার কেউ খুচরা বিক্রির চেষ্টা করছেন।

চাষিরা জানান, বিঘাপ্রতি মুখী কচু চাষে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদিত কচু বর্তমানে ভালো মানের হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। বিঘাপ্রতি অন্তত ৮০ হাজার টাকা বিক্রি না হলে তাদের লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ফেরত আসবে না।

সুবোলপুর গ্রামের কচু চাষি আব্দুস ছাত্তার জানান,“৪০ শতক জমিতে কচু চাষ করে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, এর সঙ্গে জমি মালিককে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। মাসখানেক আগে এক ক্রেতা ১ লাখ টাকা বললেও এখন মাত্র ৬০ হাজার দাম বলছে। এতে কিচ্ছু থাকবে না।”

উথলী গ্রামের তরুণ কৃষক কৌশিক রহমান বলেন,“দেড় বিঘা জমির অর্ধেক পানিতে ডুবে গেছে। যেগুলো আছে, অতিবৃষ্টিতে তারও অবস্থা ভালো না। বাজারে কেজি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে শ্রমিক খরচ দিয়েই টাকা শেষ হয়ে যাবে।”

আরেক কৃষক লাবু মল্লিক বলেন,“গতবার কচু বিক্রি করে লাভ হয়েছিল, এবার খরচ বেশি, দাম কম। জমি সেচ দিতে হয়, সার লাগে বেশি, শ্রমিক খরচও বেশি। কচু বিক্রির সময় হলেও ভালো দাম না থাকায় বিক্রি করছি না।”

স্থানীয় কচু ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের কচুর চাহিদা কমে গেছে। সেই সঙ্গে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অনেকেই আলুর দিকে ঝুঁকছেন। তবে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে কচুর বাজার কিছুটা চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে মুখী কচুর আবাদ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন ৯০ থেকে ১০০ মণের মতো হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ বছর সবজির দাম তুলনামূলক কম। আবার কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন, এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পরিমিত সার ব্যবহারের বিষয়ে আমরা সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।