, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের অস্থিরতা, প্রতিবাদে মানববন্ধন চুয়াডাঙ্গায় গলায় ট্যাবলেট আটকে শিশুর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার দামুড়হুদায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযানে চার জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দামুড়হুদায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে জাল ধ্বংস দামুড়হুদায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত চুয়াডাঙ্গায় গোপনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি,৩০ হাজার টাকা জরিমানা দর্শনায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

নির্বাচনী উৎসব চুয়াডাঙ্গার জেলা জুড়ে অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলো প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮২ পড়া হয়েছে

 

 

শিমুল রেজা
নির্বাচন ও গণভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ক্যালে-ারের পাতায় উল্টোভাবে চলছে দিনক্ষণ গণনা। আর মাত্র ১৩ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনী উৎসবের আমেজে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে । ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উৎসবের মাত্রা ও উত্তেজনা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, উঠোন বৈঠক করছেন। সকাল কিংবা সন্ধ্যা। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা- প্রতিটি উপজেলার অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে ভোট উৎসবের চিত্র। জেলা-উপজেলা শহরের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক একটি ভোট ক্যাম্প। সারাদিন চলছে কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কোন প্রার্থী কেমন, কার জনপ্রিয়তা বেশি এসব আলোচনা। এমনকি অতীতে প্রার্থীদের কার ভূমিকা কেমন ছিল তা নিয়েও চলে বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে চলছে মিছিল-মিটিং।

নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। যে কোনো নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের মানুষ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
গ্রামগঞ্জে থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের উন্মাদনার স্রোতে গোটা জাতি ভাসছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা চলছে। গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত, সড়ক মহাসড়কের মোড়সহ যেখানে মানুষের আগাগোনা সেখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। কোন দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন; কোন কোন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেগুলো নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন ভারতে। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা পলাতক এবং দলটির এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, সিপিবিসহ প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে।

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি বাজার, কার্পাসডাঙ্গা
বাজার ও দর্শনা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চায়ের দোকানই এখন ‘পলিটিক্যাল ডেস্কে’ পরিণত হয়েছে। শীতের আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ। কুড়ুলগাছি বাজারের এক চা দোকানি জানান, আগে দিনে যেখানে ২ কেটলি চা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১০ কেটলি চা বিক্রি হচ্ছে।

কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, “পুরো দেশেই এখন ভোট আর রাজনৈতিক আলোচনা। আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ।” দর্শনা বাজারের চা দোকানি বলেন, “নির্বাচনী ভিড় সামলাতে ৪টি নতুন কেটলি ও ১০০ পিস নতুন কাপ কিনেছি।”

ওবায়দুর রহমান নামের এক যুবক বলেন, “ভোটের মাঠে এবার খেলা জমবে। আগের মতো কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। আমরা সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ আবার ভোটমুখী হয়েছে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট স্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের অস্থিরতা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নির্বাচনী উৎসব চুয়াডাঙ্গার জেলা জুড়ে অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলো প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

শিমুল রেজা
নির্বাচন ও গণভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ক্যালে-ারের পাতায় উল্টোভাবে চলছে দিনক্ষণ গণনা। আর মাত্র ১৩ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনী উৎসবের আমেজে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে । ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উৎসবের মাত্রা ও উত্তেজনা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, উঠোন বৈঠক করছেন। সকাল কিংবা সন্ধ্যা। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা- প্রতিটি উপজেলার অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে ভোট উৎসবের চিত্র। জেলা-উপজেলা শহরের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক একটি ভোট ক্যাম্প। সারাদিন চলছে কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কোন প্রার্থী কেমন, কার জনপ্রিয়তা বেশি এসব আলোচনা। এমনকি অতীতে প্রার্থীদের কার ভূমিকা কেমন ছিল তা নিয়েও চলে বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে চলছে মিছিল-মিটিং।

নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। যে কোনো নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের মানুষ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
গ্রামগঞ্জে থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের উন্মাদনার স্রোতে গোটা জাতি ভাসছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা চলছে। গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত, সড়ক মহাসড়কের মোড়সহ যেখানে মানুষের আগাগোনা সেখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। কোন দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন; কোন কোন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেগুলো নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন ভারতে। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা পলাতক এবং দলটির এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, সিপিবিসহ প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে।

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি বাজার, কার্পাসডাঙ্গা
বাজার ও দর্শনা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চায়ের দোকানই এখন ‘পলিটিক্যাল ডেস্কে’ পরিণত হয়েছে। শীতের আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ। কুড়ুলগাছি বাজারের এক চা দোকানি জানান, আগে দিনে যেখানে ২ কেটলি চা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১০ কেটলি চা বিক্রি হচ্ছে।

কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, “পুরো দেশেই এখন ভোট আর রাজনৈতিক আলোচনা। আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ।” দর্শনা বাজারের চা দোকানি বলেন, “নির্বাচনী ভিড় সামলাতে ৪টি নতুন কেটলি ও ১০০ পিস নতুন কাপ কিনেছি।”

ওবায়দুর রহমান নামের এক যুবক বলেন, “ভোটের মাঠে এবার খেলা জমবে। আগের মতো কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। আমরা সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ আবার ভোটমুখী হয়েছে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট স্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন