, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনে নারীর নেতৃত্বের নতুন ইতিহাস,চার উপজেলার ইউএনও পদে চার নারী কর্মকর্তা দর্শনা পৌর নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিচিত মুখ আলহাজ্ব মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গায় ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে কিশোরীকে নৃশংস ভাবে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার দামুড়হুদায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের বাংলাদেশীদের জন্য দুই বছর পর ফের চালু হলো ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা দর্শনার কুড়ালগাছি‘জয় বাংলা’লেখা বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার দর্শনায় বিস্ফোরক ও মাদক মামলার আসামিসহ দুই জন গ্রেপ্তার ১ লাখ টাকা বিল বকেয়া থাকায় বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় মাদক ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্রিফিং

ঝিনাইদহে বিপন্ন মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত

  • প্রকাশের সময় : ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭২ পড়া হয়েছে

 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করেছে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ। বুধবার স্থানীয় এক কৃষকের মাধ্যমে শাবক দুটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সংস্থাটির নজরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম শাবক দুটির একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে সংস্থাটির সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এ সময় ঝিনাইদহ সদর বন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বন কর্মকর্তা আতা এলাহীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। উদ্ধারকৃত শাবক দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সেগুলোকে আশপাশের একটি পুকুরপাড়ের নিরাপদ স্থানে রেখে দেওয়া হয়, যাতে মা মেছো বিড়াল এসে তাদের নিয়ে যেতে পারে। সংগঠনের সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের মধ্যে মেছো বিড়ালের গুরুত্ব, পরিবেশগত ভূমিকা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। বক্তারা জানান, মেছো বিড়াল একটি নিরীহ ও উপকারী প্রাণী, যা কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এটি ফসল রক্ষায় সহায়ক এবং জলাশয়ের পরিবেশ সুস্থ রাখতে অসুস্থ মাছ ভক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মানুষের সঙ্গে সংঘাত ও ভুল ধারণার কারণে প্রাণীটি বর্তমানে হুমকির মুখে। অনেকেই এর গায়ের ডোরাকাটা দাগ দেখে ভুল করে বাঘ ভেবে আক্রমণ করে থাকে। সংগঠনের সভাপতি জানান, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা মেছো বিড়ালের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এসব এলাকায় সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেছো বিড়াল হত্যা বা আটক করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তাই সবাইকে এই প্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সংগঠনের সদস্য সাহাবুল হোসেন, নীরব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে গোবিন্দপুর গ্রামে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়। স্থানীয়দের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনে নারীর নেতৃত্বের নতুন ইতিহাস,চার উপজেলার ইউএনও পদে চার নারী কর্মকর্তা

ঝিনাইদহে বিপন্ন মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত

প্রকাশের সময় : ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়ালের দুটি শাবক উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করেছে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ। বুধবার স্থানীয় এক কৃষকের মাধ্যমে শাবক দুটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সংস্থাটির নজরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম শাবক দুটির একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে সংস্থাটির সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এ সময় ঝিনাইদহ সদর বন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বন কর্মকর্তা আতা এলাহীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। উদ্ধারকৃত শাবক দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সেগুলোকে আশপাশের একটি পুকুরপাড়ের নিরাপদ স্থানে রেখে দেওয়া হয়, যাতে মা মেছো বিড়াল এসে তাদের নিয়ে যেতে পারে। সংগঠনের সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের মধ্যে মেছো বিড়ালের গুরুত্ব, পরিবেশগত ভূমিকা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। বক্তারা জানান, মেছো বিড়াল একটি নিরীহ ও উপকারী প্রাণী, যা কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এটি ফসল রক্ষায় সহায়ক এবং জলাশয়ের পরিবেশ সুস্থ রাখতে অসুস্থ মাছ ভক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মানুষের সঙ্গে সংঘাত ও ভুল ধারণার কারণে প্রাণীটি বর্তমানে হুমকির মুখে। অনেকেই এর গায়ের ডোরাকাটা দাগ দেখে ভুল করে বাঘ ভেবে আক্রমণ করে থাকে। সংগঠনের সভাপতি জানান, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা মেছো বিড়ালের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এসব এলাকায় সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেছো বিড়াল হত্যা বা আটক করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তাই সবাইকে এই প্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সংগঠনের সদস্য সাহাবুল হোসেন, নীরব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে গোবিন্দপুর গ্রামে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়। স্থানীয়দের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।