, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশ গড়ার পরিকল্পনা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি : মাহমুদ হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গায় কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল দাবিতে শিক্ষা সচিবের বৈঠক দর্শনার কেরু শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল দর্শনার কেরু শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল জীবননগরে সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু’র মতবিনিময় মুসলিম বিশ্বে আর কোন নেতা বা নেত্রীর ভাগ্যে জোঠেনি: মাহমুদ হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে মরা মুরগি ফেলে জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনে হাহাকার হাসপাতালে সাপ্লাই বন্ধ, মিলছে না ফার্মেসিতেও হাড়কাঁপানো শীত কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা ,তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে দামুড়হুদায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহে’র মাগফিরাত কামনায় দোয়া

দর্শনায় রেলস্টপেজ: দীর্ঘ আন্দোলনের পর জনতার বিজয় উৎসব

  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৬ পড়া হয়েছে

 

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের ফসল হিসেবে বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১২ মিনিটে অবশেষে ঢাকাগামী সুন্দরবন আপ এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় দর্শনা হল্ট স্টেশনে। এর খবর আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকায়। তাই বুধবার সন্ধ্যা থেকেই স্টেশন চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। ছাত্র-যুবক থেকে প্রবীণ, নারী-পুরুষ—সবাই সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে রাতভর অপেক্ষায় থাকেন। ট্রেন থামতেই প্ল্যাটফর্মে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ ঘটে। আন্দোলনকারীরা ফুল দিয়ে বরণ করেন লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও পরিচালককে। সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবার। শুধু কর্মকর্তারাই নয়, যাত্রীদেরও ফুল ও আপ্যায়নে বরণ করা হয়। এমন আয়োজন দেখে ট্রেন কর্তৃপক্ষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দর্শনায় ট্রেন থামানোর দাবি নতুন নয়। বহু বছর ধরে স্থানীয়রা এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন দর্শনার সাবেক এমপি আলী আজগার টগর। কিন্তু তার উদ্যোগ না থাকায় বারবার বঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত হতাশ দর্শনাবাসী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পথে নামে। কয়েকজন ছাত্র ট্রেন আটকালে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ জনগণ—সবাই একসাথে দাঁড়ায় এই দাবির পক্ষে। অবশেষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বরে দর্শনা স্টেশনে স্টপেজের সিদ্ধান্ত দেয়।
এরপরই শুরু হয় বিজয়ের আনন্দ-উৎসব। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির রহমান অনিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা তৌহিদ হোসেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার নেতা পলাশ আহাম্মেদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের দর্শনা থানা সভাপতি লোকমান হোসেন, আবিদ হাসান রিফাত ও ডি এস মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোল্লা শফি উদ্দিন। সভায় বক্তারা বলেন, দর্শনার এ অর্জন কেবল একটি স্টপেজ নয়, এটি ন্যায়ের পথে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক। তারা ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুবদল সভাপতি জালাল উদ্দীন লিটন, বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের মাওলানা আব্দুল খালেক, জাসদ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট প্রমুখ। রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির উপদেষ্টা জাহিদুল ইসলাম এটিকে দর্শনাবাসীর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের সফল রূপ বলে অভিহিত করেন। প্রথম ট্রেন থামার সময় দায়িত্বে ছিলেন লোকোমাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী লোকোমাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক ও পরিচালক আতিকুর রহমান। তারা জানান, এমন ভালোবাসা ও সম্মান খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। এই মুহূর্ত তাদের কাছেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

দেশ গড়ার পরিকল্পনা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি : মাহমুদ হাসান খান বাবু

দর্শনায় রেলস্টপেজ: দীর্ঘ আন্দোলনের পর জনতার বিজয় উৎসব

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

 

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের ফসল হিসেবে বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১২ মিনিটে অবশেষে ঢাকাগামী সুন্দরবন আপ এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় দর্শনা হল্ট স্টেশনে। এর খবর আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকায়। তাই বুধবার সন্ধ্যা থেকেই স্টেশন চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। ছাত্র-যুবক থেকে প্রবীণ, নারী-পুরুষ—সবাই সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে রাতভর অপেক্ষায় থাকেন। ট্রেন থামতেই প্ল্যাটফর্মে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ ঘটে। আন্দোলনকারীরা ফুল দিয়ে বরণ করেন লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও পরিচালককে। সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবার। শুধু কর্মকর্তারাই নয়, যাত্রীদেরও ফুল ও আপ্যায়নে বরণ করা হয়। এমন আয়োজন দেখে ট্রেন কর্তৃপক্ষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দর্শনায় ট্রেন থামানোর দাবি নতুন নয়। বহু বছর ধরে স্থানীয়রা এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন দর্শনার সাবেক এমপি আলী আজগার টগর। কিন্তু তার উদ্যোগ না থাকায় বারবার বঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত হতাশ দর্শনাবাসী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পথে নামে। কয়েকজন ছাত্র ট্রেন আটকালে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ জনগণ—সবাই একসাথে দাঁড়ায় এই দাবির পক্ষে। অবশেষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বরে দর্শনা স্টেশনে স্টপেজের সিদ্ধান্ত দেয়।
এরপরই শুরু হয় বিজয়ের আনন্দ-উৎসব। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির রহমান অনিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা তৌহিদ হোসেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার নেতা পলাশ আহাম্মেদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের দর্শনা থানা সভাপতি লোকমান হোসেন, আবিদ হাসান রিফাত ও ডি এস মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোল্লা শফি উদ্দিন। সভায় বক্তারা বলেন, দর্শনার এ অর্জন কেবল একটি স্টপেজ নয়, এটি ন্যায়ের পথে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক। তারা ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুবদল সভাপতি জালাল উদ্দীন লিটন, বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের মাওলানা আব্দুল খালেক, জাসদ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট প্রমুখ। রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির উপদেষ্টা জাহিদুল ইসলাম এটিকে দর্শনাবাসীর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের সফল রূপ বলে অভিহিত করেন। প্রথম ট্রেন থামার সময় দায়িত্বে ছিলেন লোকোমাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী লোকোমাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক ও পরিচালক আতিকুর রহমান। তারা জানান, এমন ভালোবাসা ও সম্মান খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। এই মুহূর্ত তাদের কাছেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।