, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল: বিএনপিকে জয়ী করতে সবাই ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকুন বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন: শরীফুজ্জামান শরীফ দর্শনায় বিএনপি গণমিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত জীবননগরে মিছিল-স্লোগানে বিএনপির সমাবেশস্থল মুখরিত: মাহমুদ হাসান খান বাবু দর্শনায় বিএনপির বিশাল নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত দর্শনা কেরু চিনিকলে আখ রোপণের নতুন মৌসুমের উদ্বোধন করলেন শিল্প সচিব ওবাইদুর রহমান দর্শনা পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের রামনগরে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত দর্শনার কেরু চিনিকল এবারও লাভের মুখ দেখছে না,লাভের মুখ দেখাচ্ছে ডিস্টিলারি চুয়াডাঙ্গায় ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুড়ুলগাছির শেফালীর শিশু সন্তান নীরবের মৃত্যুর ২১ দিন অতিবাহিত:ঝিনাইদহ ত্রিমোহনীর টুটুলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ মায়ের

দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল: বিএনপিকে জয়ী করতে সবাই ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকুন

  • প্রকাশের সময় : ১১ মিনিট আগে
  • ১০ পড়া হয়েছে

 

শিমুল রেজা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিনত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।


জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছে, আমাদের বয়সী যারা আছে, তারা দেখেছেন, জানেন; সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।, সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, ২৪-এর আন্দোলনই হোক— কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ, কেউ দেখেনি। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসাথে থাকতে হবে। আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি— তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।

ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট শুরু হবে, সাথে সাথে ভোট দেওয়া ইনশাল্লাহ শুরু করবেন। কিন্তু, ভোট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসলে চলবে না। ভোটকেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে। কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসবেন।

তিনি আরও বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দামুড়হুদার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ আজ দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার আগে নারীর ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে। জামায়াতে ইসলাম নারীর যে অধিকারের কথা বলছে তা একদম ভুয়া, কারণ জামায়াত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের একটিতেও নারী নেতৃত্ব দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় ভাবে নারী নেতৃত্বে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই নির্বাচনে যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে, তাই তিনি বলেন এই জনসমাবেশ থেকে সবাই বাড়ি গিয়ে নিজের মা-বোন নিজের পরিবারের ভোটগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল বুঝিয়ে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভা ও গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক এর ছেলে মিথুন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।

 

 

 

জনপ্রিয়

দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল: বিএনপিকে জয়ী করতে সবাই ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকুন

দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল: বিএনপিকে জয়ী করতে সবাই ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকুন

প্রকাশের সময় : ১১ মিনিট আগে

 

শিমুল রেজা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিনত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।


জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছে, আমাদের বয়সী যারা আছে, তারা দেখেছেন, জানেন; সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।, সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, ২৪-এর আন্দোলনই হোক— কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ, কেউ দেখেনি। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসাথে থাকতে হবে। আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি— তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।

ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট শুরু হবে, সাথে সাথে ভোট দেওয়া ইনশাল্লাহ শুরু করবেন। কিন্তু, ভোট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসলে চলবে না। ভোটকেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে। কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসবেন।

তিনি আরও বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দামুড়হুদার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ আজ দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার আগে নারীর ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে। জামায়াতে ইসলাম নারীর যে অধিকারের কথা বলছে তা একদম ভুয়া, কারণ জামায়াত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের একটিতেও নারী নেতৃত্ব দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় ভাবে নারী নেতৃত্বে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই নির্বাচনে যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে, তাই তিনি বলেন এই জনসমাবেশ থেকে সবাই বাড়ি গিয়ে নিজের মা-বোন নিজের পরিবারের ভোটগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল বুঝিয়ে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভা ও গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক এর ছেলে মিথুন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।