, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জীবননগরে রমজানের দ্বিতীয়দিনেই কাঁচাবাজারে অস্বস্তি বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ, শশা ও লেবুর দাম আকাশ ছোঁয়া চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের ৬ ইঞ্চি ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে ট্রেন বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা চুয়াডাঙ্গায় পুকুর থেকে নবজাতকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কুড়ুলগাছি প্রকাশ্যে প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাই, পরিকল্পনাকারী দুইজন গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় যে কারণে বিএনপির ‘নিশ্চিত’ ২টি আসন হাতছাড়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা বিপুল ভোটে এগিয়ে রুহুল আমিন  চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে দাঁড়িপাল্লা অ্যাড.মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিজয়  চুয়াডাঙ্গায় বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন চুয়াডাঙ্গায় ৭৯ হাজার টাকাসহ ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে জামায়াত নেতা আটক চুয়াডাঙ্গার দুইটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে

চুয়াডাঙ্গার সুগন্ধি নলেন গুড় যাচ্ছে দেশের বাইরে

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৩ পড়া হয়েছে

 

প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার রায় তার আবোল-তাবোল গ্রন্থের ‘ভালোরে ভালো’ ছড়ায় খেজুর গুড়ের গুণকীর্তন করেছেন ঠিক এভাবেই। চুয়াডাঙ্গার সুস্বাদু ও সুগন্ধি খেজুর গুড় ও পাটালি দেখলেই এই ছড়ার কথা মনে পড়ে যায়। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এ গুড়ের উৎপাদন বাড়ালে প্রচুর আয় করা সম্ভব। জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমের শুরুতেই এ জেলার মাঠে মাঠে গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর তিন হাজার মেট্রিকটন খেজুর গুড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে যার বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকার উপরে।

চুয়াডাঙ্গার সুস্বাধু সুগন্ধি খেজুর গুড়ের স্থানীয়ভাবে ‘নলি’ বা নলেন গুড় নামে পরিচিত। নলেন এই খেজুর গুড়ের সর্ববৃহৎ হাট বসে জেলার সরজগঞ্জে। এছাড়াও এ জেলার অন্যান্য সাপ্তাহিক হাট এবং বাজারগুলোতেও খেজুর গুড়ের আমদানি হয়। সরোজগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট থেকে ভরা মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক গুড় সারা দেশ ও দেশের বাইরে রপ্তানি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। এই শীতের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মানসম্পন্ন খেজুর গুড় উৎপাদনকারী গাছি ভায়েরা গাছের পরিচর্যা শেষে এখন খেজুর গুড় উৎপাদনে নিয়োজিত হয়ে পড়েছেন। তারা ব্যস্তসময় পার করছেন খেজুর উৎপাদনের জন্য। কখনো রস সংগ্রহ করছেন, রস সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়া করে গুড় তৈরি করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গুড় উৎপাদনে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপরে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলায় গুড়ের বাজার বসে সরজগঞ্জ, বদরগঞ্জ, জয়রামপুর, হিজোলগাড়ী, দিন্নাতপুর, দোস্তের হাট, জীবননগর ও হাসাদ বাজারে।গাছিরা জানান, ক্রমেই খেজুর গাছ যেমন কমছে নতুন করে গাছি পেশায় কেউ আসছে না। তাই আগামীতে বাংলার এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে। তবে, বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদন প্রচুর আয় করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, এ জেলার খেজুর গাছ ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে। গাছিদের অভিযোগ, বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ এক শ্রেণির পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা মালিকরা ইট পোড়াতে কাঠ হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার করছেন। ফলে খেজুর গাছ ক্রমেই উজাড় হচ্ছে। তাই আগের মতো আর খেজুর গুড় উৎপাদন হচ্ছে না

জনপ্রিয়

জীবননগরে রমজানের দ্বিতীয়দিনেই কাঁচাবাজারে অস্বস্তি বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ, শশা ও লেবুর দাম আকাশ ছোঁয়া

চুয়াডাঙ্গার সুগন্ধি নলেন গুড় যাচ্ছে দেশের বাইরে

প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার রায় তার আবোল-তাবোল গ্রন্থের ‘ভালোরে ভালো’ ছড়ায় খেজুর গুড়ের গুণকীর্তন করেছেন ঠিক এভাবেই। চুয়াডাঙ্গার সুস্বাদু ও সুগন্ধি খেজুর গুড় ও পাটালি দেখলেই এই ছড়ার কথা মনে পড়ে যায়। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এ গুড়ের উৎপাদন বাড়ালে প্রচুর আয় করা সম্ভব। জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমের শুরুতেই এ জেলার মাঠে মাঠে গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর তিন হাজার মেট্রিকটন খেজুর গুড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে যার বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকার উপরে।

চুয়াডাঙ্গার সুস্বাধু সুগন্ধি খেজুর গুড়ের স্থানীয়ভাবে ‘নলি’ বা নলেন গুড় নামে পরিচিত। নলেন এই খেজুর গুড়ের সর্ববৃহৎ হাট বসে জেলার সরজগঞ্জে। এছাড়াও এ জেলার অন্যান্য সাপ্তাহিক হাট এবং বাজারগুলোতেও খেজুর গুড়ের আমদানি হয়। সরোজগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট থেকে ভরা মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক গুড় সারা দেশ ও দেশের বাইরে রপ্তানি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। এই শীতের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মানসম্পন্ন খেজুর গুড় উৎপাদনকারী গাছি ভায়েরা গাছের পরিচর্যা শেষে এখন খেজুর গুড় উৎপাদনে নিয়োজিত হয়ে পড়েছেন। তারা ব্যস্তসময় পার করছেন খেজুর উৎপাদনের জন্য। কখনো রস সংগ্রহ করছেন, রস সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়া করে গুড় তৈরি করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গুড় উৎপাদনে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপরে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলায় গুড়ের বাজার বসে সরজগঞ্জ, বদরগঞ্জ, জয়রামপুর, হিজোলগাড়ী, দিন্নাতপুর, দোস্তের হাট, জীবননগর ও হাসাদ বাজারে।গাছিরা জানান, ক্রমেই খেজুর গাছ যেমন কমছে নতুন করে গাছি পেশায় কেউ আসছে না। তাই আগামীতে বাংলার এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে। তবে, বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদন প্রচুর আয় করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, এ জেলার খেজুর গাছ ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে। গাছিদের অভিযোগ, বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ এক শ্রেণির পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা মালিকরা ইট পোড়াতে কাঠ হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার করছেন। ফলে খেজুর গাছ ক্রমেই উজাড় হচ্ছে। তাই আগের মতো আর খেজুর গুড় উৎপাদন হচ্ছে না