, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড নেওয়ার জন্য উপচে পড়া ভিড়, একবারে কেনা যাবে যত টাকার তেল চুয়াডাঙ্গায় তেল কিনতে লাগবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চুয়াডাঙ্গা সহ-১১ জেলায় নতুন ডিসি চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর সহযোগিতায় আরেক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ চুয়াডাঙ্গায় পুঁতে রাখা ৭ মাইন নিষ্ক্রিয়:আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি বাগানের গাছ কেটে লুটপাট,সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন চুয়াডাঙ্গায় আ’লীগ কার্যালয়কে অবমুক্ত ঘোষণা, পতাকা উত্তোলন: ছড়িয়েছে ভিডিও চুয়াডাঙ্গায় জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি! দর্শনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত: ঝিনাইদহের শৈলকুপা এক পরিবারের স্ত্রী সন্তান সহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর সহযোগিতায় আরেক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৬ পড়া হয়েছে

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি আমবাগানে এ পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম, শাহজাহান এবং শিয়ালমারি গ্রামের আব্দুস সালাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর (ভিকটিম) সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০)। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ কবিতাই ভিকটিমকে ফুঁসলে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে এলে কবিতা ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিকটিমকে পাশের জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ওই রাতেই কবিতা ও ভিকটিমকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দিয়ে যায় আসামিরা।

বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি নিজেই বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিক জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে আজ ২৮ মার্চ ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড নেওয়ার জন্য উপচে পড়া ভিড়, একবারে কেনা যাবে যত টাকার তেল

চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর সহযোগিতায় আরেক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশের সময় : ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি আমবাগানে এ পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম, শাহজাহান এবং শিয়ালমারি গ্রামের আব্দুস সালাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর (ভিকটিম) সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০)। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ কবিতাই ভিকটিমকে ফুঁসলে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে এলে কবিতা ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিকটিমকে পাশের জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ওই রাতেই কবিতা ও ভিকটিমকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দিয়ে যায় আসামিরা।

বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি নিজেই বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিক জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে আজ ২৮ মার্চ ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।