, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাবাকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট জাইমার জয়নুল, গেট রেডি, আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট বানাবো’ বেগম জিয়ার সেই বিশ্বাসের আমানত রক্ষায় এক বিচারপতির নিঃসঙ্গ লড়াই কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৫ একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিনম্র শ্রদ্ধা জীবননগরে রমজানের দ্বিতীয়দিনেই কাঁচাবাজারে অস্বস্তি বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ, শশা ও লেবুর দাম আকাশ ছোঁয়া চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের ৬ ইঞ্চি ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে ট্রেন বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা চুয়াডাঙ্গায় পুকুর থেকে নবজাতকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কুড়ুলগাছি প্রকাশ্যে প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাই, পরিকল্পনাকারী দুইজন গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় যে কারণে বিএনপির ‘নিশ্চিত’ ২টি আসন হাতছাড়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা বিপুল ভোটে এগিয়ে রুহুল আমিন 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে টুল-পিঁড়িতে বসে চুল দাড়ি কাটার দৃশ্য

  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৪ পড়া হয়েছে

 

 

শিমুল রেজা
স্বভাবগত ভাবেই মানুষ সুন্দরের পূজারি, ছেলেদের সৌন্দর্যের অনেকটাই বহন করে চুল-দাড়িতেই। তাই সৌন্দর্যবর্ধনে নরসুন্দর বা নাপিতদের কদর ও প্রয়োজনীয়তাও অনেক বেশি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন আর চোখে পড়ে না হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জের ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর বা নাপিত সম্প্রদায়ের টুলে বা পিঁড়িতে বসিয়ে চুল ও দাড়ি কাটার দৃশ্য।চুয়াডাঙ্গায় একটা সময় ছিল, যখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে, বিভিন্ন হাট বাজারে চুল-দাড়ি কাটতেন অসংখ্য নরসুন্দর বা নাপিত, এখন তেমন একটা দেখা মিলে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নাপিতের পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে।

 


কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নরসুন্দর বা নাপিত পেশা বর্তমানে শহর-বন্দর ও গ্রামের হাট-বাজার গুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি সেলুন। সে সব সেলুনে চুল-দাঁড়ি কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মেশিন। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাটে টুল বা পিঁড়িতে বসে মানুষ আর চুল- দাড়ি কাটতে চায় না। এছারা সেলুন গুলোতে উন্নত মানের প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে বহুকালের ঐতিহ্যগত চুলকাটার কারিগরদের খুব কমই দেখা যায় হাটে-ঘাটে, গ্রামাঞ্চলে।অনেকেই পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে লজ্জাবোধ করেন, অথচ সেই ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে কে না গিয়েছে নিকটতম হাটে পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে। আবার কিছু ছিল গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়িতে গিয়ে চুল- দাড়ি কাটতো এবং মৌসুমে মৌসুমে তার বিনিময়ে ধান নিত।

রবিবার (২৮শে ডিসেম্বর) সরেজমিনে, জীবননগর উপজেলার ধোপাখালি ও শিয়ালমারি পশুহাটে গিয়ে কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ নরসুন্দরের সাথে কথা হলে তারা জানান, এখনচুল- দাড়ি কাটেতে ১৫-২০ টাকা নেই। তবুও এখন আর আগের মতো হাটে কাজ হয় না। আধুনিকতা ও অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে মানুষ হাটে এসে পিঁড়িতে বসে চুল-দাড়ি কাটতে চায় না।এত কম দামেও চুল দা‌ড়ি কাটার মানুষ পাওয়া যায় না ।আগের মতো আয় রোজগার হয় না। নাপিত মনোর উদ্দীন জানান, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন হাট বাজারে,গ্রামে গ্রামে ঘুরে নরসুন্দরের কাজ করেন। সারাদিনে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার চালানো ক‌ঠিন হয়ে পড়েছে।

শুরুতে ৩ টাকায় চুল, ২ টাকা দাড়ি গোঁফ কাটতেন, তখনই ভালো আয় রোজগার হতো আর এখন বাজার মূল্য বাড়লেও সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফিরেন রোজগার ভাল হয়না। তিনি বহু বছরের ঐতিহ্য বাব-দাদার পেশাটা ছাড়তে পারছেন না। নরসুন্দর রবিউল আলম জানান গ্রামে গঞ্জে কাজ করলে সকল বয়সের প্রিয় মানুষের দেখা মিলে যা এই বৃদ্ধ বয়সে মনের প্রশান্তি আনে। অন্য পেশায় যাওয়ার কোন উপায় নাই। অর্থেও অভাবে ভাল একটি সেলুনের দোকান দিতে পারেন না।তাদের যন্ত্রাংশ রাখার পাত্রটি একটি বাজারের ব্যাগে করে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। তাদেও দুঃখ কষ্টের কথা কেউ শুনে না। এই পেশায় আয় কমে যাওয়ায় দিনদিন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এই পেশা কে টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।

জনপ্রিয়

বাবাকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট জাইমার

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে টুল-পিঁড়িতে বসে চুল দাড়ি কাটার দৃশ্য

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

শিমুল রেজা
স্বভাবগত ভাবেই মানুষ সুন্দরের পূজারি, ছেলেদের সৌন্দর্যের অনেকটাই বহন করে চুল-দাড়িতেই। তাই সৌন্দর্যবর্ধনে নরসুন্দর বা নাপিতদের কদর ও প্রয়োজনীয়তাও অনেক বেশি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন আর চোখে পড়ে না হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জের ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর বা নাপিত সম্প্রদায়ের টুলে বা পিঁড়িতে বসিয়ে চুল ও দাড়ি কাটার দৃশ্য।চুয়াডাঙ্গায় একটা সময় ছিল, যখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে, বিভিন্ন হাট বাজারে চুল-দাড়ি কাটতেন অসংখ্য নরসুন্দর বা নাপিত, এখন তেমন একটা দেখা মিলে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নাপিতের পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে।

 


কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নরসুন্দর বা নাপিত পেশা বর্তমানে শহর-বন্দর ও গ্রামের হাট-বাজার গুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি সেলুন। সে সব সেলুনে চুল-দাঁড়ি কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মেশিন। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাটে টুল বা পিঁড়িতে বসে মানুষ আর চুল- দাড়ি কাটতে চায় না। এছারা সেলুন গুলোতে উন্নত মানের প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে বহুকালের ঐতিহ্যগত চুলকাটার কারিগরদের খুব কমই দেখা যায় হাটে-ঘাটে, গ্রামাঞ্চলে।অনেকেই পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে লজ্জাবোধ করেন, অথচ সেই ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে কে না গিয়েছে নিকটতম হাটে পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে। আবার কিছু ছিল গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়িতে গিয়ে চুল- দাড়ি কাটতো এবং মৌসুমে মৌসুমে তার বিনিময়ে ধান নিত।

রবিবার (২৮শে ডিসেম্বর) সরেজমিনে, জীবননগর উপজেলার ধোপাখালি ও শিয়ালমারি পশুহাটে গিয়ে কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ নরসুন্দরের সাথে কথা হলে তারা জানান, এখনচুল- দাড়ি কাটেতে ১৫-২০ টাকা নেই। তবুও এখন আর আগের মতো হাটে কাজ হয় না। আধুনিকতা ও অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে মানুষ হাটে এসে পিঁড়িতে বসে চুল-দাড়ি কাটতে চায় না।এত কম দামেও চুল দা‌ড়ি কাটার মানুষ পাওয়া যায় না ।আগের মতো আয় রোজগার হয় না। নাপিত মনোর উদ্দীন জানান, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন হাট বাজারে,গ্রামে গ্রামে ঘুরে নরসুন্দরের কাজ করেন। সারাদিনে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার চালানো ক‌ঠিন হয়ে পড়েছে।

শুরুতে ৩ টাকায় চুল, ২ টাকা দাড়ি গোঁফ কাটতেন, তখনই ভালো আয় রোজগার হতো আর এখন বাজার মূল্য বাড়লেও সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফিরেন রোজগার ভাল হয়না। তিনি বহু বছরের ঐতিহ্য বাব-দাদার পেশাটা ছাড়তে পারছেন না। নরসুন্দর রবিউল আলম জানান গ্রামে গঞ্জে কাজ করলে সকল বয়সের প্রিয় মানুষের দেখা মিলে যা এই বৃদ্ধ বয়সে মনের প্রশান্তি আনে। অন্য পেশায় যাওয়ার কোন উপায় নাই। অর্থেও অভাবে ভাল একটি সেলুনের দোকান দিতে পারেন না।তাদের যন্ত্রাংশ রাখার পাত্রটি একটি বাজারের ব্যাগে করে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। তাদেও দুঃখ কষ্টের কথা কেউ শুনে না। এই পেশায় আয় কমে যাওয়ায় দিনদিন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এই পেশা কে টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।