, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় রুমে ঘুমাতে গিয়ে সাড়া নেই, পরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, স্ত্রী পলাতক চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি’য় উৎপাদিত দেশে অ্যালকোহলে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় যুব সবুজ উদ্যোক্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গার সব খাল খননে উদ্যোগ, উন্মুক্ত টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন সবাই

চুয়াডাঙ্গায় ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫৩ পড়া হয়েছে

 

চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজি মৌসুমে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। এবারের বাজার দর ভালো হওয়ায় গত বছরের লোকসান পুষিয়ে কৃষকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে প্রায় ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফুলকপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে। বাজারে আগাম সরবরাহ এবং ভালো চাহিদার কারণে কৃষকরা এবার সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনেকে ৮০ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে চাষ করে আমার খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজারে। গত বছরের ক্ষতি এবারে পুরোপুরি উঠে গেছে। দাম ভালো থাকলে আগামীতে আরও জমিতে ফুলকপি চাষ করব।

গাড়াবাড়িয়া বাগানপাড়ার কৃষক মোহাম্মদ হাসানুর রহমান জানান, সাত বিঘা জমিতে চাষ করেছি। প্রতি বিঘা দিয়েছি এক লাখ ১০ হাজারে। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। গতবছর যেখানে ৬০-৭০ হাজারে বিক্রি করেছিলাম, এ বছর এক লাফে দাম বেড়েছে অর্ধ লাখ টাকা।

তরুণ চাষি মোহাম্মদ আরাফাত, যিনি ছাত্রত্বের পাশাপাশি বাবার খামার দেখাশোনা করেন, বলেন, তিন বিঘা জমিতে আগাম কপি বিক্রি করেছি এক লাখ ২৫ হাজারে। এখন সাধারণ কপির দাম ৮০-৯০ হাজারে চলছে। খরচ বাদেও ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।

গাড়াবাড়িয়ার আরেক কৃষক মোহাম্মদ শাহজান আলী বলেন, এবার আবহাওয়া খুবই অনুকূলে ছিল, তাই ফলন দারুণ হয়েছে। আগাম কপি বিক্রি করেছি ১ লাখ ২০ হাজারে। খরচ ৩০-৩৫ হাজার, লাভ পেয়েছি ৬০-৭০ হাজার। গত বছরের লোকসান এবারে পুরো ঘুচে গেছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান, গতবারের তুলনায় এবারের চাহিদা ভালো। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন, আর কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গা সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা। এবারের শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৪০ হেক্টর, যার মধ্যে ৭ হাজার ২২৮ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি ১ হাজার ৪৯৪ হেক্টর। ফলন ও দাম উভয়ই ভালো, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারজাতকরণে পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক সময়ে বাজার ধরলে লাভ আরও বাড়বে।

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ২১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গায় ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজি মৌসুমে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। এবারের বাজার দর ভালো হওয়ায় গত বছরের লোকসান পুষিয়ে কৃষকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে প্রায় ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফুলকপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে। বাজারে আগাম সরবরাহ এবং ভালো চাহিদার কারণে কৃষকরা এবার সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনেকে ৮০ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে চাষ করে আমার খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজারে। গত বছরের ক্ষতি এবারে পুরোপুরি উঠে গেছে। দাম ভালো থাকলে আগামীতে আরও জমিতে ফুলকপি চাষ করব।

গাড়াবাড়িয়া বাগানপাড়ার কৃষক মোহাম্মদ হাসানুর রহমান জানান, সাত বিঘা জমিতে চাষ করেছি। প্রতি বিঘা দিয়েছি এক লাখ ১০ হাজারে। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। গতবছর যেখানে ৬০-৭০ হাজারে বিক্রি করেছিলাম, এ বছর এক লাফে দাম বেড়েছে অর্ধ লাখ টাকা।

তরুণ চাষি মোহাম্মদ আরাফাত, যিনি ছাত্রত্বের পাশাপাশি বাবার খামার দেখাশোনা করেন, বলেন, তিন বিঘা জমিতে আগাম কপি বিক্রি করেছি এক লাখ ২৫ হাজারে। এখন সাধারণ কপির দাম ৮০-৯০ হাজারে চলছে। খরচ বাদেও ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।

গাড়াবাড়িয়ার আরেক কৃষক মোহাম্মদ শাহজান আলী বলেন, এবার আবহাওয়া খুবই অনুকূলে ছিল, তাই ফলন দারুণ হয়েছে। আগাম কপি বিক্রি করেছি ১ লাখ ২০ হাজারে। খরচ ৩০-৩৫ হাজার, লাভ পেয়েছি ৬০-৭০ হাজার। গত বছরের লোকসান এবারে পুরো ঘুচে গেছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান, গতবারের তুলনায় এবারের চাহিদা ভালো। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন, আর কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গা সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা। এবারের শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৪০ হেক্টর, যার মধ্যে ৭ হাজার ২২৮ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি ১ হাজার ৪৯৪ হেক্টর। ফলন ও দাম উভয়ই ভালো, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারজাতকরণে পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক সময়ে বাজার ধরলে লাভ আরও বাড়বে।