
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও উৎসব নির্বিঘ্ন করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনস ড্রিল শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা। তিনি আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে করণীয় নানা দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং উপস্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতামত শোনেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা একটি বড় ধর্মীয় উৎসব। এটি শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের দেশের সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, গতবারের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গা জেলায় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এই সভায় উপস্থিত আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের মনোবল আরও দৃঢ় হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। এর জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য, মোবাইল টিম, গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘মণ্ডপে প্রবেশ ও বাহিরের পথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। মণ্ডপের আশেপাশে যদি কোনো অন্ধকার জায়গা থাকে, সেগুলোতে অস্থায়ী লাইট বসানোর জন্য উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করছি। এছাড়া, মণ্ডপে অবশ্যই সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে, যেন কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। তারা যেন নির্দিষ্ট পোশাক (কোট) ও পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহার করে, যাতে পুলিশসহ আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সহজে চিহ্নিত করতে পারে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা বাধ্যতামূলক। পূজার সময় আজানের সময়কে সম্মান জানাতে হবে। আজান এবং নামাজের সময় কোনোভাবেই ঢাক-ঢোল, মাইক কিংবা উচ্চ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় সহাবস্থান রক্ষায় এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব।’
মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো পূজামণ্ডপে বা এর আশেপাশে কেউ যদি মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন মন্দির চত্বরে মদ বা মাদক গ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে। মণ্ডপে দামি প্রতিমা, অলংকার বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী থাকলে তা আগে থেকেই পুলিশকে জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। মণ্ডপের জমি বা মালিকানা নিয়ে কোনো প্রকার বিরোধ থাকলে, তা পূজা শুরুর আগেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন, যেন কোনো সমস্যা না হয়।’
সবশেষে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ উৎসব সফলভাবে আয়োজনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা কেউই একা নই। সকলে একসঙ্গে থাকলে, সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও নিরাপদ দুর্গাপূজা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। আপনারা আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—চুয়াডাঙ্গা হবে শান্তির একটি দৃষ্টান্ত।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের, সাংবাদিক সমিতি জেলা ইউনিটের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস।
এছাড়াও জেলা পুলিশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ, ডিআইও—১, ডিএসবি, ওসি (ডিবি), বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু—বৌদ্ধ—খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিগণ, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন মতামত দেন।





















