শিমুল রেজা,
বাংলাদেশে এক জটিল ও কঠিন সমস্যার নাম মাদক ,দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। কোনো পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হলে সে পরিবার পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাদকদ্রব্য আমাদের সমাজে চরম বিরূপ প্রভাব যে ফেলে তার প্রমাণ রয়েছে অসংখ্য। দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে প্রায় প্রতিনিয়তই মাদকের কারণে পরিবার ও সমাজের ওপর দিয়ে বয়ে যায় দুর্ভোগের কালো ছায়া। মাদকাসক্ত ব্যক্তির হাতে মা, বাবা, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন খুনের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্যবার। মাদকের কারণে এ দেশে বহু পরিবার ধ্বংস হচ্ছে। মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি গ্রাম থেকে গ্রামে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ।”
মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে দর্শনা পৌর এলাকায় একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন, বি.কম (অনার্স), এম.কম(হিসাব বিজ্ঞান)ও দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক প্রভাষক, মেমনগর বিডি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সভাপতি আলহাজ্ব মশিউর রহমান।রবিবার (১৪ জুন) বিকালে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দর্শনা পৌর এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,দর্শনা পৌর এলাকা মাদক মুক্ত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেশী, শিক্ষক, বন্ধু এবং সহকর্মীরা একে অপরকে মাদকমুক্ত জীবনধারায় উৎসাহিত করতে পারে। যদি কেউ কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকে, তবে সে বিএনপির রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে। এ ধরনের কোনো ব্যক্তিকে দলে ঠাঁই দেওয়া হবে না। সামাজিক চাপ ও দৃষ্টান্তের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। যখন সমাজের প্রত্যেক সদস্য মাদকবিরোধী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়, তখন যুবসমাজকে প্ররোচিত করা অনেক সহজ হয়। মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ অপরিহার্য। এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনকে সুরক্ষিত করে না, বরং পুরো সমাজকে সুস্থ, নিরাপদ এবং সুন্দর রাখে। তিনি আরো বলেন, পরিবারিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা, রাজনীতিবিদদের ভূমিকা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মিলিতভাবে সাভারের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত জীবনের দিকে পরিচালিত করতে পারে। মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে ওঠা মানে হলো যুবসমাজকে শক্তিশালী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। দর্শনা পৌর এলাকায় মাদক নির্মূলে সচেতনতা, শিক্ষা এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা ছাড়া আমাদের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে মাদক নির্মূলে সফলতা আসবে, সমাজ থেকে মাদক উচ্ছেদে দেশের সব সচেতন নাগরিককে ভূমিকা নিতে হবে।’ মাদকমুক্ত দর্শনা পৌরসভা গড়তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন আলহাজ্ব মশিউর রহমান ,উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক, ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখায় তিনি এলাকায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।'