, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুসলিম বিশ্বে আর কোন নেতা বা নেত্রীর ভাগ্যে জোঠেনি: মাহমুদ হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে মরা মুরগি ফেলে জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনে হাহাকার হাসপাতালে সাপ্লাই বন্ধ, মিলছে না ফার্মেসিতেও হাড়কাঁপানো শীত কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা ,তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে দামুড়হুদায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহে’র মাগফিরাত কামনায় দোয়া দামুড়হুদায় সার ব্যাবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনে দুই প্রতিষ্ঠানের অর্থদণ্ড দামুড়হুদায় নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ভোটের গাড়ি’ চুয়াডাঙ্গায় মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির রাজত্বে নতুন বেনামবাদশা ছোট জামাই আহাদ-প্রশাসন নির্বিকার চুয়াডাঙ্গায় ছাগল চুরির অভিযোগে দুই জন গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনী অভিযানে ১৫ টি ককটেল বোমা ও ট্যাপেন্ডা ট্যাবলেটসহ আটক ১

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির রাজত্বে নতুন বেনামবাদশা ছোট জামাই আহাদ-প্রশাসন নির্বিকার

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ পড়া হয়েছে

 

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক সাম্রাজ্ঞী “ মিনির” মাদক সাম্রাজ্য আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এলাকায় বেড়েছে চুরির উপদ্রব্য। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিরোধ প্রশ্নের মুখে।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশন এলাকায় সকল অপকর্মের তীর্থস্থান। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর আলমডাঙ্গা উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এর পরপরই পৌর শহরে আলোচিত ‘মাদক সম্রাজ্ঞী মিনি’র নেতৃত্বাধীন চক্র ভেঙে পড়ে। কয়েক বছর ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই চক্র। আলমডাঙ্গা পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইয়াবা, ট্যাপেন্টা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে এই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাদক সাম্রাজ্ঞী মিনির ছোট জামাই আহাদ আলীর হাতে। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। এ কাজে যুক্ত আছেন স্টেশনপাড়ার আলাউদ্দীনের স্ত্রী মিনি খাতুন, ২০১৮ সালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ওল্টু মিয়ার স্ত্রী মায়া খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী মুন্নি খাতুন ও তাঁর ছেলে রুবেল হোসেন। রুবেল একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে থাকায় তাঁর স্ত্রী লিজা খাতুন বর্তমানে ব্যবসা দেখভাল করছেন বলে অভিযোগ।

এছাড়া মুন্নির বোন হাসি খাতুন ও তাঁর মেয়ে বৃষ্টি খাতুন, সফু ও তাঁর স্ত্রী রোলা খাতুন এবং সামাদ ও তাঁর স্ত্রী কুটি খাতুনও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, কারা মাদক ব্যবসা করছে তা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাই জানে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তাঁদের বাসাবাড়ির ঠিকানাও প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত। তবু তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

পুলিশ ও চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে মূলত মিনি ও মুন্নির পরিবারের সদস্যরা। ট্রেনে করে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা, গাঁজা, পেথিডিন ও ফেনসিডিল এনে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মিনির ছোট জামাই আহাদ আলী ও সামাদ এলাকায় মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তথ্য থাকলেও জনবল ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত সাফল্য আসে না।”

পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মাদকের হোতাদের ধরতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু অসাধু সোর্স ও কর্মচারী আগাম তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, থানার মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত স্টেশন এলাকায় কেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নির্মূল করা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ক্যাম্পিং হলেও এই এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

এক বাসিন্দা বলেন, “কারা মাদক বিক্রি করে আমরা সবাই জানি। কিন্তু মুখ খুললেই বিপদে পড়তে হয়।”

আরেক দোকানি জানান, মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি মসজিদের দানবাক্স থেকেও টাকা চুরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীল’। অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

মুসলিম বিশ্বে আর কোন নেতা বা নেত্রীর ভাগ্যে জোঠেনি: মাহমুদ হাসান খান বাবু

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির রাজত্বে নতুন বেনামবাদশা ছোট জামাই আহাদ-প্রশাসন নির্বিকার

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক সাম্রাজ্ঞী “ মিনির” মাদক সাম্রাজ্য আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এলাকায় বেড়েছে চুরির উপদ্রব্য। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিরোধ প্রশ্নের মুখে।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশন এলাকায় সকল অপকর্মের তীর্থস্থান। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর আলমডাঙ্গা উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এর পরপরই পৌর শহরে আলোচিত ‘মাদক সম্রাজ্ঞী মিনি’র নেতৃত্বাধীন চক্র ভেঙে পড়ে। কয়েক বছর ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই চক্র। আলমডাঙ্গা পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইয়াবা, ট্যাপেন্টা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে এই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাদক সাম্রাজ্ঞী মিনির ছোট জামাই আহাদ আলীর হাতে। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। এ কাজে যুক্ত আছেন স্টেশনপাড়ার আলাউদ্দীনের স্ত্রী মিনি খাতুন, ২০১৮ সালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ওল্টু মিয়ার স্ত্রী মায়া খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী মুন্নি খাতুন ও তাঁর ছেলে রুবেল হোসেন। রুবেল একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে থাকায় তাঁর স্ত্রী লিজা খাতুন বর্তমানে ব্যবসা দেখভাল করছেন বলে অভিযোগ।

এছাড়া মুন্নির বোন হাসি খাতুন ও তাঁর মেয়ে বৃষ্টি খাতুন, সফু ও তাঁর স্ত্রী রোলা খাতুন এবং সামাদ ও তাঁর স্ত্রী কুটি খাতুনও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, কারা মাদক ব্যবসা করছে তা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাই জানে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তাঁদের বাসাবাড়ির ঠিকানাও প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত। তবু তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

পুলিশ ও চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে মূলত মিনি ও মুন্নির পরিবারের সদস্যরা। ট্রেনে করে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা, গাঁজা, পেথিডিন ও ফেনসিডিল এনে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মিনির ছোট জামাই আহাদ আলী ও সামাদ এলাকায় মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তথ্য থাকলেও জনবল ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত সাফল্য আসে না।”

পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মাদকের হোতাদের ধরতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু অসাধু সোর্স ও কর্মচারী আগাম তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, থানার মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত স্টেশন এলাকায় কেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নির্মূল করা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ক্যাম্পিং হলেও এই এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

এক বাসিন্দা বলেন, “কারা মাদক বিক্রি করে আমরা সবাই জানি। কিন্তু মুখ খুললেই বিপদে পড়তে হয়।”

আরেক দোকানি জানান, মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি মসজিদের দানবাক্স থেকেও টাকা চুরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীল’। অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।