চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জেলার দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লুৎফুন নাহার। তাঁর নেতৃত্বে জেলার চার উপজেলার মধ্যে তিনটিতে ইতোমধ্যে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন এবং জীবননগর উপজেলায়ও নারী ইউএনও পদায়ন হওয়ায় প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসকসহ জেলার চারটি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে একযোগে পাঁচ নারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের নজির সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগেও চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জেলা প্রশাসকসহ চার উপজেলার ইউএনও পদে একই সময়ে পাঁচ নারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ঘটনা এবারই প্রথম।
বর্তমান জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এ জেলার দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। এর আগে ২০১৫ সালের ২৫ জুন জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সায়মা ইউনুস। তিনি ২০১৭ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রায় এক দশক চুয়াডাঙ্গায় আর কোনো নারী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাননি।
গত ২৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২ এপ্রিল ২০২৬ তিনি জেলার ৩০তম জেলা প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিসিএস ২৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এরও আগে, গত ২৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিথি মিত্র।
এছাড়া, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে গত ১১ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-৩২৭) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তারকে আলমডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে পদায়ন করা হয়। ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সর্বশেষ গত বুধবার (২৪ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ফারাশিদ বিন এনাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং একই কার্যালয়ের কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তাকে ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের পূর্বের কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার (২৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় লাভলী ইয়াসমিন আনুষ্ঠানিকভাবে দামুড়হুদা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে পদায়ন পাওয়া সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে সেখানে বর্তমানে মো. আশরাফুল আলম রাসেলই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলার প্রশাসনিক অঙ্গনে নারী নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, জেলা প্রশাসক থেকে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জনসেবার ক্ষেত্র আরও গতিশীল হবে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের জন্য ভালো কাজ করছে-এটি তারই প্রমাণ। আমি যখন দেখলাম এই জেলায় আরও দুজন নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন আমার মনে হয়েছে এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। আমি কাজের ক্ষেত্রে ছেলে ইউএনওদের সঙ্গেও কাজ করেছি, তারাও ভালো কাজ করেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, মেয়েরা আরও ভালো কাজ করেন। তারা যেমন আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের সংসার সামলান, তেমনি কর্মক্ষেত্রও আরও বেশি আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করেন-আমার কাছে এমনটিই মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি দেশের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই বাংলাদেশ গঠনে আমাদের মেয়েরা চমৎকার অবদান রাখছেন এবং ভবিষ্যতেও রাখবেন বলে আমি আশা করি। এই জেলার সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করি