আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় সারাদেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার ও নাশকতা মামলার আসামি হিসেবে পতিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে চলমান অভিযানের মধ্যেই দর্শনায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার রাতে (১ জানুয়ারি) দর্শনা থানার হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশ বিশেষ অভিযানে বেগমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদ ও বেগমপুর ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মিন্টুকে আটক করে। সাইফুল ইসলাম মিন্টু বেগমপুর ইউনিয়ন বাজার এলাকার যুবলীগ নেতা হিসাবে পরিচিত ব্যক্তি এবং সাবেক হিজলগাড়ী হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটককৃত উভয়েই পতিত যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে প্রভাব বিস্তার ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তবে আটকের পরদিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরের পর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদকে আদালতে পাঠানো হলেও সাইফুল ইসলাম মিন্টুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দর্শনা ও বেগমপুর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন,
ডেভিল হান্ট ফেজ-২ চলাকালে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদ ও যুবলীগনেতা সাইফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলে শুনেছি। শাহিনকে কোর্টে পাঠানো হলেও সাইফুল ইসলামকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো, তার কারণ আমাদের জানা নেই।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, বেগমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদ ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাহিনকে আদালতে পাঠানো হয় এবং সাইফুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাইফুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে যুবলীগ করত ঠিক, কিন্তু তার কোনো পদ-পদবী না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ও অতীত ভূমিকা উপেক্ষা করে একজন যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার কি একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এককভাবে নিতে পারেন?। এ নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাটি নিয়ে বেগমপুর ও দর্শনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।