চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বেলগাছি ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের পাড়ের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে শরিফুল ইসলাম নামে এক মাটি ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর ও একটি লোডার জব্দ করা হয়।
গতকাল সকালে উপজেলার ফরিদপুর দোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর আক্তার। জরিমানাপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ওই গ্রামের পুটিল মণ্ডলের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গত ১১ এপ্রিল বেলগাছি ইউনিয়নে প্রায় সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্প অনুযায়ী খননকৃত মাটি খালের দুই পাশে পাড় নির্মাণে ব্যবহারের কথা ছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই মাটি যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে একপাশে ফেলে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে শরিফুল ইসলাম এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহার করে ওই মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি শুরু করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেন এবং মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করেন।
এদিকে, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, যেখানে পাড় নির্মাণের প্রয়োজন ছিল, সেখানে অনেক জায়গায় পাড় দেওয়া হয়নি। এছাড়া কয়েকটি স্থানে খাল নির্ধারিত পাঁচ ফুট গভীরতায় খনন করা হয়নি, আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খনন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকৃত মাটি বিক্রির সুযোগ তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী