চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে পতাকা উত্তোলন এবং জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয় ‘অবমুক্ত’ ঘোষণার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মী চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে পতাকা উত্তোলন করছেন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার দেখা যায় এবং তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন। ব্যানারে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা ছিল।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হক সজলের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। উপস্থিত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের মাথায় হেলমেট ছিল। তাদেরকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা গেছে। এবং ইমদাদুল হক সজলকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ‘অবমুক্ত’ ঘোষণা দিতে শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা ওই কার্যালয় ঘিরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি ও কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ অভুথানের দিন কার্যালয়টি বিভিন্ন অংশে ভাংচুর ও আগুন দেয় ছাত্র-জনতা। পরে গত ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা আবারও বুলডোজার নিয়ে এসে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ভাংচুরসহ ব্যাপাক ক্ষয়ক্ষতি করে। এরপর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে আবার কার্যালয়টির অবমুক্ত ঘোষণা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। যেহেতু এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।