
স্টাফ রিপোর্টার,
দেশে পুলিশের যেমন সুনাম আছে, তেমনি দুর্নামও আছে। সুনামের ধারা ধরে রাখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। তবে আটঘরিয়া থানার চিত্র উলটো। ওসি রফিকুল ইসলাম এর যোগদানের পর থেকেই টাকার বিনিময়ে মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ঘটনা প্রায় ঘটছে। নিরীহ মানুষ থানায় গেলে পাত্তা পায় না। অথচ টাকাওয়ালারা থানায় গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তখন আসামি দোষী কিনা তা তদন্তের আগেই গ্রেফতার করতে তৎপর হয়ে পড়ে। থানা মানে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না-এটা মানুষের মনে গেথে গেছে। টাকার মাধ্যমে তদন্ত উল্টে যায়। যারা আসামি তারা টাকা দেয়, আর ছাড়া পায়। এভাবে অনেক অপরাধী ছাড়া পাচ্ছে। ওসি রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে অভ্যস্ত। আইনকে ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করা একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। আইন যেখানে মানুষকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করার কথা সেখানে পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল ইসলাম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা ভুয়া ছিনতাই মামলা দিয়ে অসহায় নিরপরাধিদের হয়রানি করছে প্রতিনিয়ত।
মিথ্যা মামলা, মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিভ্রান্ত করা কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা এক প্রকার শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ,মিথ্যা মামলায় কাউকে হয়রানি করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে যারা প্রকৃত আসামি, তাদেরও চিহ্নিত করা। মামলাবাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে, তদন্তকারী কর্মকর্তা বা অন্য কেউ মামলাবাণিজ্য করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ থাকলেও
পুলিশ সদর দপ্তরকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, লাবু মিয়া নামে একজনকে আজগুবি মিথ্যা বানোয়াট ছিনতাই মামলায় আসামি করে গ্রেফতার দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছিনতাই এর ঘটনা আটঘরিয়া থানায় সন্দেহ মূলক আসামি করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানাধীন নাস্তিপুর গ্রামের আজগার আলীর ছেলে লাবু মিয়াকে দুঃখজনক হলেও সত্য।
এবিষয়ে লাবু মিয়া’র বাবা আজগার আলী বলেন, “আমি আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গত ৮ই জানুয়ারি রাত ১২ টার দিকে তিনটি প্রাইভেট কারে করে এসে সিভিল ড্রেসে ৮/১০ জন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। সকালে দর্শনা থানা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি,পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। মিথ্যা ছিনতাই এর মামলা দিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানসহ মানসিক ভাবে নির্যাতন চালায়। এবং ওসির রুমে নিয়ে জোরপূর্বক মুচলেকা নেন।১০/১২টি মিথ্যা মামলা দিবো ও হাত-পা ভেঙ্গে জেল হাজতে ঢুকিয়ে রাখবে বলে এমন সব হুমকি দেন। আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহত পেতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, পুলিশের আইজি ও পাবনা জেলার পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন,‘অজ্ঞাত আসামি নিয়ে বাণিজ্য করার সুযোগ নেই। তারপরও পুলিশের মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের কেউ অর্থ না পেয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। কেউ হয়রানির শিকার হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি জোর দিয়ে বলছি, দুর্নীতিবাজদের পুলিশে স্থান নেই।’
এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে আটঘরিয়া থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ জানান একজন বাদী অভিযোগ নিয়ে আসতেই পারে, তদন্ত কি শেষ হয়েছে, আমি জানিনা আমাকে শুনতে হবে মামলা রেফারেন্স টা দেন আমি দেখছি।




















