, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দর্শনার কেরু শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল দর্শনার কেরু শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল জীবননগরে সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু’র মতবিনিময় মুসলিম বিশ্বে আর কোন নেতা বা নেত্রীর ভাগ্যে জোঠেনি: মাহমুদ হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে মরা মুরগি ফেলে জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনে হাহাকার হাসপাতালে সাপ্লাই বন্ধ, মিলছে না ফার্মেসিতেও হাড়কাঁপানো শীত কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা ,তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে দামুড়হুদায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহে’র মাগফিরাত কামনায় দোয়া দামুড়হুদায় সার ব্যাবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনে দুই প্রতিষ্ঠানের অর্থদণ্ড দামুড়হুদায় নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ভোটের গাড়ি’

আজ দর্শনা মুক্ত দিবস

  • প্রকাশের সময় : ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬ পড়া হয়েছে

 

আজ ভয়াল ৪ ডিসেম্বর, দর্শনা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দর্শনাকে মুক্ত করতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রাতভর যুদ্ধ করে। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দর্শনা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বাড়াদির অপার ভারত ক্যাম্পে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে রওনা দেন। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তের নাস্তিপুর মাঠে এসে যুদ্ধের সকল প্রস্তুতি নিয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।

তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার নুর হাকিম, কাসেদ আলী ও আবুল খায়েরের নেতৃত্বে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন মুকিতের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন মিত্রবাহিনী দামুড়হুদার গোবিন্দপুরের পাশ দিয়ে বরারার নৌকা ব্যবহার করে প্রতাপপুর ও গোবিন্দপুরের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে রাত ১০টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদী পার হন। এরপর তাঁরা পরাণপুর ও লোকনাথপুর মধ্য দিয়ে নলগাড়ীর রাস্তা হয়ে লোকনাথপুর মাঠ, ধাপড়ী রাস্তা পার হয়ে বটজল ও তালবাগান মাঠের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নেন। এরপর পুরো রাতজুড়ে ব্যাংকার কেটে অ্যামবুশ নিয়ে অপেক্ষা করেন যোদ্ধারা।

আরেকটি দল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সামাদ ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জীবননগর–উথলী রেললাইন ধরে দর্শনার দিকে এগিয়ে আসে। একই সময়ে মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে আরও একটি মুক্তিযোদ্ধা দল ও মিত্রবাহিনী গেদে সীমান্ত থেকে এসে দর্শনায় অবস্থান নেয়।

কমান্ডারের নির্দেশে রাত ৩টার দিকে পরাণপুর বেলে মাঠ, শান্তিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত পাক হানাদার বাহিনীর উপর ত্রিমুখী হামলা শুরু করে যৌথবাহিনী। পাকবাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক সেল, এসএমজি ও এস-লারেল গুলির বৃষ্টি নামতে থাকে। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। উভয় পক্ষের গোলাগুলি চলতে থাকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। যৌথবাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে পাকবাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং দিকবিদিক ছুটে পালাতে থাকে।

এ সময় মিত্রবাহিনীর দুটি ট্যাংক যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যায়। ট্যাংকের আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ভোর সাড়ে ৬টার আগেই পাকবাহিনী দর্শনা রেললাইন ও সড়ক পথ ধরে চুয়াডাঙ্গার দিকে পালাতে থাকে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর প্রায় দেড়শ’ এর বেশি সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজগঞ্জের ইপিআর সদস্য আবুল কাশেমের ডান পা সেলের আঘাতে উড়ে যায় এবং আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

পরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বদানকারী ক্যাপ্টেন মুকিত ও মিস্টার বুফার দর্শনা কেরু চিনিকলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। লাল–সবুজের পতাকা উত্তোলনের সময় মিস্টার বুফার সালাম গ্রহণ করেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে দর্শনা পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।

জনপ্রিয়

দর্শনার কেরু শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

আজ দর্শনা মুক্ত দিবস

প্রকাশের সময় : ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আজ ভয়াল ৪ ডিসেম্বর, দর্শনা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দর্শনাকে মুক্ত করতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রাতভর যুদ্ধ করে। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দর্শনা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বাড়াদির অপার ভারত ক্যাম্পে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে রওনা দেন। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তের নাস্তিপুর মাঠে এসে যুদ্ধের সকল প্রস্তুতি নিয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।

তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার নুর হাকিম, কাসেদ আলী ও আবুল খায়েরের নেতৃত্বে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন মুকিতের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন মিত্রবাহিনী দামুড়হুদার গোবিন্দপুরের পাশ দিয়ে বরারার নৌকা ব্যবহার করে প্রতাপপুর ও গোবিন্দপুরের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে রাত ১০টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদী পার হন। এরপর তাঁরা পরাণপুর ও লোকনাথপুর মধ্য দিয়ে নলগাড়ীর রাস্তা হয়ে লোকনাথপুর মাঠ, ধাপড়ী রাস্তা পার হয়ে বটজল ও তালবাগান মাঠের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নেন। এরপর পুরো রাতজুড়ে ব্যাংকার কেটে অ্যামবুশ নিয়ে অপেক্ষা করেন যোদ্ধারা।

আরেকটি দল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সামাদ ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জীবননগর–উথলী রেললাইন ধরে দর্শনার দিকে এগিয়ে আসে। একই সময়ে মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে আরও একটি মুক্তিযোদ্ধা দল ও মিত্রবাহিনী গেদে সীমান্ত থেকে এসে দর্শনায় অবস্থান নেয়।

কমান্ডারের নির্দেশে রাত ৩টার দিকে পরাণপুর বেলে মাঠ, শান্তিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত পাক হানাদার বাহিনীর উপর ত্রিমুখী হামলা শুরু করে যৌথবাহিনী। পাকবাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক সেল, এসএমজি ও এস-লারেল গুলির বৃষ্টি নামতে থাকে। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। উভয় পক্ষের গোলাগুলি চলতে থাকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। যৌথবাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে পাকবাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং দিকবিদিক ছুটে পালাতে থাকে।

এ সময় মিত্রবাহিনীর দুটি ট্যাংক যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যায়। ট্যাংকের আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ভোর সাড়ে ৬টার আগেই পাকবাহিনী দর্শনা রেললাইন ও সড়ক পথ ধরে চুয়াডাঙ্গার দিকে পালাতে থাকে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর প্রায় দেড়শ’ এর বেশি সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজগঞ্জের ইপিআর সদস্য আবুল কাশেমের ডান পা সেলের আঘাতে উড়ে যায় এবং আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

পরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বদানকারী ক্যাপ্টেন মুকিত ও মিস্টার বুফার দর্শনা কেরু চিনিকলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। লাল–সবুজের পতাকা উত্তোলনের সময় মিস্টার বুফার সালাম গ্রহণ করেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে দর্শনা পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।